নেই বসতবাড়ি, পথের ধারেই সন্তানের জন্ম দিলেন প্রসূতি

164

আলিপুরদুয়ার: মাথার উপরে ছাদ নেই। ফলে ঝড় বৃষ্টি এলেই ফোরলেনের ধারে হিম পাইপের নিচে পরিবার-পরিজনদের নিয়ে একটি আদিবাসী পরিবারকে আশ্রয় নিতে হয়। কার্যত খোলা আকাশের নিচেই এদের দিন রাত কেটে যায়। ভিন রাজ্য থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে টোটোপারা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এরা আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসক নার্স ছাড়াই পরিবারের এক সদস্যা কন্যা সন্তানেরও জন্ম দিয়েছেন। সরকারি চিকিৎসা না পেয়েই তাঁরা এক আদিবাসী কবিরাজকে ডেকে এনে প্রসব করানো থেকে মা ও সন্তানের চিকিৎসাও করেছেন। করোনা পরিস্থিতিতে দিনমজুরের কাজ হারিয়েছেন আদিবাসী ওই পরিবারের সদস্যরা। ফলে তাদের একবেলা খাবার জোটে তো আরেকবেলা না খেয়ে কেটে যায়। এদের কপালে জোটে না সরকারি কোনও সহযোগিতা। কারণ এদের নেই রেশন কার্ড। নেই ভোটার কার্ড, আধার কার্ড।

লোকের বাড়ির আনাচে-কানাচে ত্রিপল খাঁটিয়ে এরা কোনও রকমে বছরের পর বছর দিন কাটিয়েছে। কয়েক মাস আগে সেই মাথাগোঁজার ঠাঁই টুকু হারিয়ে এরা খাতোপাড়া সুপার মার্কেটের পরিত্যক্ত বাজারের একটি শেডের নিচে আশ্রয় নেয় আদিবাসী পরিবারটি। এতদিন পরিবারের পাঁচ সদস্য থাকলেও ১১ দিন আগে পরিবারের আরেক নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন সুমিতা মারান্ডি। মেনোকা হেমব্রম ওই সদ্যজাত সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর থেকেই অনেকের টনক নড়েছে। বিষয়টি জনপ্রতিনিধি স্তরে পৌঁছোলেও সরকারি কোনও সাহায্য সহযোগিতা পায়নি আদিবাসী ওই পরিবারটি।

- Advertisement -

পরিবারের কর্ত্রী লক্ষ্মী সোরেন বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির জন্য আমাদের কাজকর্ম হচ্ছে না। ফলে খাবারই জোটে না, বাচ্চাটাকে কি খাওয়াই? খবর পেয়ে এদিন এলাকায় যান আলিপুরদুয়ার-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনুপ দাস। তিনি সদ্যোজাতর জন্য শিশুখাদ্য ছাড়াও চাল ডাল সহ বেশ কিছু খাদ্যসামগ্রী তিনি পরিবারকে তুলে দিয়েছেন। তবে রাজ্য সরকার আদিবাসীদের জন্য সরকারি সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য দরাজ হলেও এখানে কোনও সরকারি সুযোগ সুবিধাই পাচ্ছে না ওই আদিবাসী পরিবারটি।