সচেতনতার অভাব, হাটে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলল বেচাকেনা

157

রায়গঞ্জ: করোনা সংক্রমণ রুখতে প্রশাসন যখন বারবার সাধারন মানুষকে সচেতন করছে তবুও একশ্রেণির মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বুধবার এমনই চিত্র দেখা গেল রায়গঞ্জের হাটগুলিতেও। মাস্ক ছাড়া, সামাজিক দূরত্ব না মেনেই আজ সারাদিন চলল বেচাকেনা।

এদিন রায়গঞ্জ ব্লকের মহারাজা ও মোহিনীগঞ্জের সাপ্তাহিক হাট ছিল। সকাল থেকেই ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে হাটগুলিতে। প্রতিদিন সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে চললেও হুঁশ নেই অধিকাংশ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা পড়েছেন বিপদে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জমায়েত বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলা হলেও তা অমান্য করে চলছে বেচাকেনা। হাটগুলিতে সাধারন মানুষের মাস্ক ছাড়াই জমায়েতের ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। সীমিত পরিসরে ও সামাজিক দূরত্ব সহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট পরিচালনার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এর ফলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সেখানকার সচেতন নাগরিকরা।

- Advertisement -

ঝুঁকি জেনেও পেটের দায়ে হাটে আসতে হয়েছে বলে জানান ক্রেতা-বিক্রেতারা। মহারাজাহাট ব্যবসায়ী সমিতির তরফে আজ মাইকিং করে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সচেতন করা হয়। পাশাপাশি বিনা কারনে বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা বুরন সরকার জানান, হাটে অনেকেই মাস্ক পড়ছেন না। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা হচ্ছে না। ফলে খুবই আতঙ্কে আছি।
মহারাজা হাট ব্যবসায়ী কমল মোদক জানান, কিছু মানুষের জন্য আমরা বিপদে পড়ছি।

এই বিষয়ে মহারাজা হাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক উত্তম চট্টোপাধ্যায় বলেন, হাটে কোনো বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে না। অধিকাংশ ক্রেতা ও বিক্রেতার মুখে আজ মাস্ক দেখা যায়নি। অথচ আমরা বারবার সবাইকে সচেতন করছি। আজও মাইকিং করে ক্রেতা-বিক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করা হল।

এদিকে, গত মঙ্গলবার মোহিনীগঞ্জের হাট বিধায়ক দেবেন্দ্র নাথ রায়ের মৃত্যুতে বন্ধ ছিল। তাই আজ সকাল থেকে হাটে বহু মানুষের ভিড় হয়। রায়গঞ্জ শহরে লকডাউন চললেও হাটে কোনো প্রভাব পড়েনি। অধিকাংশ ক্রেতা ও বিক্রেতার মুখে মাস্ক দেখা যায়নি।
অশোক রায় নামে হাটে আসা এক ক্রেতা বলেন, ‘আমরা তো মাস্ক পড়ছি। কিন্ত অধিকাংশ মানুষ সচেতন হয়নি।’
মোহিনীগঞ্জ হাট ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য শিবশঙ্কর উপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাস্ক পড়ার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার জন্য আবেদন জানিয়েছি। আগামী সপ্তাহ থেকে আমরা কড়াকড়ি করব। এভাবে চলতে থাকলে করোনা সংক্রমণ ছড়াবে সাধারণ মানুষের মধ্যে।’

রায়গঞ্জ ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক রাজু লামা বলেন, ‘প্রতিটি হাটে গিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে সচেতন করা হচ্ছে। যদি দেখা যায় তা সত্বেও তারা সরকারি নির্দেশকা মানছে না তাহলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে জরিমানা ধার্য করতে আমরা বাধ্য হব।’