ভোলাচাত্রার স্কুলে স্থায়ী শিক্ষক নেই, দেওয়া হয় না মিড-ডে মিল

306

পার্থসারথি রায়, সিতাই : এলাকার মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ আরও বাড়াতে ঘটা করে তৈরি করা হয়েছিল গার্লস হাইস্কুল। কিন্তু তৈরির পাঁচ বছর পরও স্কুলে কোনো স্থায়ী শিক্ষক নিযুক্ত হননি। বছরের পর বছর পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলও দেওয়া হয় না। যার জেরে স্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যা তলানিতে এসে ঠেকেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রশাসনকে বহুবার জানিয়ে কোনো কাজ হয়নি। অবশ্য জেলা স্কুল শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি সিতাই-১ গ্রাম পঞ্চায়ে এলাকার ভোলাচাত্রা গার্লস জুনিয়ার হাইস্কুলে।

সিতাই ব্লকের ভোলাচাত্রা গার্লস জুনিয়ার হাইস্কুল ২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর অনুমোদন লাভ করে। কিন্তু শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ওই স্কুলে কোনো স্থায়ী শিক্ষক নিযুক্ত হননি। কাজ চালাচ্ছেন দুই অতিথি শিক্ষক। স্কুলে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র ১৪। দীর্ঘদিন ধরে একটি ঘরে স্কুলের পঠনপাঠন চললেও সম্প্রতি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট একটি নতুন বিল্ডিং তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, দুজন অতিথি শিক্ষক থাকলেও স্কুলে পঠনপাঠন হয় না বললেই চলে। শিক্ষকরা দেরিতে আসেন, তাড়াতাড়ি চলে যান। পাঁচ বছর ধরে স্কুল চললেও পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল দেওয়া হয়নি। মিলন বর্মন ও জগদীশ বর্মন প্রমুখ অভিভাবকরা বলেন, স্কুলে স্থায়ী শিক্ষক নেই। অতিথি শিক্ষকরা স্কুলে আসেন দেরিতে। কিন্তু বেলা বারোটা থেকে একটার মধ্যেই বাড়ি চলে যান। যার জেরে স্কুলে আমাদের মেয়েদের ঠিকমতো পড়াশোনা হয় না। গত পাঁচ বছর ধরে বাচ্চাদের মিড-ডে মিল দেওয়া হয়নি। এই অবস্থার কথা বহুবার বিডিওকে জানিয়ে কোনো সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে এই স্কুল ছেড়ে পড়ুয়ারা অন্য স্কুলে চলে যাচ্ছে। পড়ুয়াদের মধ্যে ওয়াহিদা খাতুন ও অম্বিকা রায় বলে, আমাদের স্কুলে ঠিকমতো লেখাপড়া হয় না। অঙ্ক, ইংরেজি, বিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয়ে আমরা স্কুলে কিছুই শিখতে পারছি না। বছরের পর বছর আমরা মিড-ডে মিল পাই না। গত ৮ নভেম্বর শুধুমাত্র একদিন আমাদের মিড-ডে মিল দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

এবিষয়ে স্কুলের টিচার ইন চার্জ ধনঞ্জয় ঘোষ বলেন, অতিথি শিক্ষক হলেও আমরা পড়ুয়াদের দায়িত্ব সহকারে পড়ানোর চেষ্টা করি। আমি বছরখানেক স্কুলের দায়িত্বে রয়েছি। শুরু থেকে স্কুলে মিড-ডে মিল চালু না থাকায় আমিও এতদিন মিড-ডে মিল ছাড়াই স্কুল চালিয়ে আসছি। সিতাই সার্কেল ইনস্পেকটর লিটন বিশ্বাস বলেন, স্কুলে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের আবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মিড-ডে মিলের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সিতাইয়ের বিডিও অমিতকুমার মণ্ডল বলেন, ওই স্কুলে মিড-ডে মিল দেওয়া হচ্ছিল না। বিষয়টি জানতে পেরে মিড-ডে মিল চালু করার ব্যবস্থা করেছি। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের ডিআই রবিনা তামাং বলেন, ওই স্কুল সহ জেলার বিভিন্ন স্কুলে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য শিক্ষা দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে।