মাথা গোঁজার ঠাই নেই, সমস্যায় কর্নজোড়ার দাস পরিবার

283

রায়গঞ্জ: উত্তর দিনাজপুর জেলা সদর কর্নজোড়ায় বারোগন্ডা সংসদে থাকেন দাস পরিবার। খুরমা, নিমকি ও নারু বিক্রি করেই কোনওরকমে সংসার চলে পারুল দাস ও স্বামী সমীর দাসের। স্বামী অসুস্থ থাকায় সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব পারুলদেবীর কাঁধে। তিনি তিলের ও চিড়ার নারু বিক্রি করেই সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগান দিত।

১৩ নম্বর কমলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বারোগন্ডা গ্রামের বাসিন্দা দাস পরিবার। প্রায় ২০ বছর আগে তৎকালীন কংগ্রেস পরিচালিত পঞ্চায়েত থেকে ইন্দিরা আবাস যোজনায় মাথা গোঁজার মতো একটি ঘর পেয়েছিলেন তাঁরা। একটি মাত্র টিনের ছাউনি সেটিও প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে। দেওয়ালের ইট ও প্লাস্টার খসে পড়েছে। খুঁটি দিয়ে ঘরটি কোনওরকম ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। সেই ভাঙ্গা ঘরের মধ্যেই কোনও মতে থাকেন তাঁরা। বড় মেয়ে সুস্মিতা দাস বিএ দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া। ছোটো মেয়ে মাধুমিতা নবম শ্রেণিতে পড়ে।

- Advertisement -

পারুল দাস জানান, সারাদিন অফিস কাছারিতে নারু বিক্রি করি। কোনওদিন ১০০, আবার কোনওদিন ১৫০ টাকা হয়। স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। মাঝেমধ্যে সন্ধ্যাবেলা লাইটার নিয়ে কালীবাড়িতে বসেন তিনি। উপার্জন নেই বললেই চলে। একটি ঘরের মধ্যে চারজনে খুব কষ্টে থাকি। বেশি ঝড় বৃষ্টি হলে স্কুলে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।স্বামী সমীর দাস জানান, অনেক আবেদন নিবেদন করেও মিলছে না বাংলা আবাস যোজনার ঘর। করোনায় বসে গিয়েছি। মেয়েদের পড়াশোনা কি করে করাব বুঝতে পারছি না।

গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান প্রশান্ত দাস জানান, প্রধান হওয়ার আড়াই বছর হল আজ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে ঘর দিতে পারিনি। সরকার থেকে ঘর দেওয়া না হলে উপভোক্তাদের কিভাবে দেব। রাজ্য সরকারের তরফে সবরকম সুবিধা ওনাদের দেওয়া হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ফুলটুসি বর্মন জানান, ঘর কেউই পাচ্ছেন না। ঘর দেওয়া শুরু হলে যারা যোগ্য তাঁরা পাবেন। এ পর্যন্ত ১০০ মানুষের আবেদন জমা পড়েছে।