শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ির প্রধান ডাকঘরে প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার লেনদেন হয়। কিন্তু এত টাকার লেনদেন হওয়া সত্ত্বেও ডাকঘরের নিরাপত্তায় কোনো কর্মী নেই। এমন পরিস্থিতিতে ডাকঘরের কর্মীদের একাংশ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিষয়টি নিয়ে পোস্ট অফিসের নর্থবেঙ্গল রিজিওনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর (২) দেবাশিস গোস্বামী বলেন, নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়টি আমাদের চিন্তাভাবনার মধ্যে রয়েছে। রাতে এখানে নিরাপত্তারক্ষী থাকে। কিন্তু দিনেরবেলা সেইভাবে কেউ থাকে না। নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রয়োজন অবশ্যই রয়েছে। তবে আমাদের এখানে যা টাকা আসে তার বেশির ভাগটাই ব্যাংকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে কিছু টাকা এখানে থাকে। নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে দার্জিলিংয়ের সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পোস্টের তরফে এখনও সেইভাবে কোনো নির্দেশ আসেনি। নির্দেশ এলে সেই মতো নিরাপত্তার বিষয়ে কাজ করা হবে।

শিলিগুড়ি শহরজুড়ে গত এক সপ্তাহে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের একের পর এক ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে বর্ধমান রোডে একটি ফিনান্স কোম্পানির অফিসে দিনদুপুরে ডাকাতদল হানা দিয়ে ৪৮ কেজি সোনা ও তিন লক্ষ টাকা নগদ নিয়ে চম্পট দেয়। ইতিমধ্যে সিআইডি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের তরফে বিশেষ দল গঠন করে ঘটনায় জড়িত ডাকাতদলের সদস্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। চারজনের স্কেচ আঁকা হয়েছে। শহরের মাঝে এমন দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় স্বভাবতই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অপরদিকে, শিলিগুড়িতে লাগাতার সোনার দোকানে চুরি এবং একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। বাড়িতে ঢুকে দিনদুপুরেও ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে।

এমন পরিস্থিতিতে পোস্ট অফিসে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা বলেছেন কর্মীদের একটি অংশ। তাঁরা বলেন, প্রতিদিন এক কোটি টাকার বেশি নগদে লেনদেন হয় এখান থেকে। পোস্ট অফিসে দুষ্কৃতীরা হানা দিলে তা মোকাবিলা করার কোনো ব্যবস্থা নেই। একজন কর্মীও এখানে নেই। শহরের প্রতিটি ব্যাংকে নিরাপত্তকর্মী রয়েছে। সেখানে বিপুল অর্থের লেনদেন হয়। এখানেও কোটি টাকার লেনদেন হয়। অনেকেই নগদ নিয়ে আসেন। একটি এটিএম কাউন্টার রয়েছে। তাই অবিলম্বে এখানকার নিরাপত্তা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। নয়তো যেভাবে শহরজুড়ে একের এক ঘটনা ঘটছে তাতে অনেকেই আতঙ্কিত।