নদীতে জল নেই, ছট পুজোর আয়োজনে সমস্যা

332

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: শুকনো নদীতে ছট পুজোর আয়োজন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়া ও এথেলবাড়ির ছটপুজো কমিটির কর্মকর্তারা। নদীতে জল না থাকায় আর্থমুভার দিয়ে নদীবক্ষ খুঁড়ে জলধারা বের করতে বিরাট অংকের টাকা খরচ করতে হচ্ছে কমিটিগুলিকে।

মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকে প্রচুর নদী থাকলেও গ্যারগান্ডা, পাগলি, তিতি, বাংরি, হাউরি, ডিমডিমার মতো অনেক নদীতে জলধারা থাকে কেবলমাত্র বর্ষাকালেই। ফলে, ছট পুজোর সময় নদীবক্ষ শুকনো থাকে। তাই পুজোর আগে নদীবক্ষ খুঁড়ে জল বের করতে হয়। এথেলবাড়িতে ডিমডিমা নদী ও বীরপাড়ায় গ্যারগান্ডা নদীর তীরে ছট পুজোর সময় হাজার হাজার পুণ্যার্থীরা ভিড় করেন। কিন্তু ডিমডিমা ও গ্যারগান্ডা নদীতে জল না থাকায় প্রতি বছর সমস্যা পোহাতে হচ্ছে আয়োজকদের।

- Advertisement -

এথেলবাড়িতে ডিমডিমা নদীর তীরে পাঁচশোটি ঘাট তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান আয়োজকরা। কমিটির সম্পাদক রাজেশ সিং বলেন, ‘ছট পুজোর জন্য কোমর পর্যন্ত জল চাই। কিন্তু ডিমডিমা নদীতে হাঁটুসমান জলও নেই। কয়েকদিন পর সেটুকুও শুকিয়ে যাবে। তাই দুটি আর্থমুভার দিয়ে নদীবক্ষ খুঁড়ে জলধারা বের করার কাজ চলছে। এজন্য লক্ষাধিক টাকা খরচ হচ্ছে।’ বীরপাড়া ছট পুজো কমিটির সভাপতি মুকেশ গুপ্তা বলেন, ‘আমরা চারটি আর্থমুভার দিয়ে গ্যারগান্ডা নদীর বুকে নালা খুঁড়ে জলধারা বের করছি। এজন্য দুই লক্ষেরও বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। গ্যারগান্ডা নদীর তীরে আটশোটি ঘাট তৈরি করার কাজ চলছে।’

প্রসঙ্গত, এর আগে রাঙ্গালিবাজনায় মুজনাই নদী ও শিশুবাড়িতে ইকতি নদীতে ছটপুজো করতে আসতেন বীরপাড়া এথেলবাড়ি সহ বিভিন্ন এলাকার পুণ্যার্থীরা। কারণ ওই দুটি নদীতে যথেষ্ট পরিমাণে জল রয়েছে। কিন্তু ওই দুটি নদীর তীরে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর জন্য ঘাট তৈরি করার জায়গা নেই। তাই এখন আর সেখানে ছট পুজো করতে যান না তাঁরা। আয়োজকরা জানান, গ্যারগান্ডা, ডিমডিমার মতো নদীগুলিতে আগাগোড়াই কম জল থাকত। কিন্তু বর্তমানে ভুটানে পাহাড় ভেঙে ডলোমাইট বের করার ফলে নদীগুলির গর্ভে প্রতি বছর বালি বজরির স্তূপ জমা হয়। তাই বর্তমানে শুখা মরশুমে আর জলই থাকে না ওই নদীগুলিতে। শুকনো খটখটে হয়ে যায় নদীগর্ভ।