পুজোর আগেও কাজ নেই, হতাশ কান্তনগরের দর্জিরা

163

রায়গঞ্জ: করোনা পরিস্থিতিতে গতবছর লকডাউনে হাটগুলিতে বন্ধ হয়ে যায় বেচা-কেনা। ফলে সমস্যায় পড়েন হাটের ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাব পড়ে রায়গঞ্জের দেবীনগর কান্তনগরের দর্জি কারখানাগুলিতে। কাজ না থাকায় অনেকেই কম দামে সেলাই মেশিন বিক্রি করে দেন। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও ফের করোনার বিধিনিষেধের জেরে হাটগুলিতে বেচা-কেনা বন্ধ হয়ে যায়। পুজোর আগে যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে কান্তনগরের দর্জিপাড়ায়। প্রায় দুই বছর ধরে কাজের বরাত না আসায় দর্জিপাড়ার অধিকাংশ কারিগর পথে বসেছেন। তাঁদের কথায়, এই মহামারি তাদের রুজিরুটি কেড়ে নিয়েছে।

কান্তনগর এলাকায় প্রায় শতাধিক পরিবারের দর্জির কারখানা ছিল। এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ মৎস্যজীবী। সবাই মাছ ধরার পাশাপাশি দিনের অধিকাংশ সময় দর্জির কাজ করতেন। প্রতিটি বাড়িতে পাঁচ থেকে ছয়টি সেলাই মেশিন ছিল। বাইরে থেকেও কারিগররা কাজ করতে আসতেন। পাড়ায় গেলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শুধু শোনা যেত মেশিনের আওয়াজ। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হতো প্রত্যেকের। লকডাউনে ব্যাপক প্রভাব পড়ায় হাটগুলিতে দীর্ঘদিন বেচা-কেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে দীর্ঘদিন মহাজনদের থেকে বরাত আসেনি। কাজ না থাকায় বাধ্য হয়ে এই পেশা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। কেউ আবার মেশিন বিক্রি করে দিয়েছেন। কাজ চলে যাওয়ায় কেউ টোটো চালাচ্ছেন। মহিলারা পরিচারিকার কাজ করছেন। কাউন্সিলার প্রসেঞ্জিত সরকার জানান, এখানকার দর্জি শিল্প অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে।

- Advertisement -

সামনেই দুর্গাপুজো। দুই বছর আগে এই দিনগুলিতে মহাজনদের থেকে পোশাকের অর্ডার নিতে হিমশিম খেতেন দর্জিরা। সকাল থেকে খোলা থাকত কারখানা। তবে বর্তমান চিত্র ভিন্ন। কয়েকটি বাড়িতে দর্জির কাজ দেখা গেলেও, তাদের হাতে নেই নতুন পোশাক তৈরির অর্ডার। কান্তনগরের এক দর্জি গোপাল রাজবংশি জানান, তাঁদের বাড়িতে ৬টি সেলাই মেশিনে কাজ চলত। গত দুই বছর ধরে মহাজনদের বরাত আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাজ পুরোপুরিভাবে বন্ধ। কয়েকটি মেশিন বিক্রি করে দিয়েছেন। বাড়ির সবাই বেকার হয়ে পড়েছেন। এখন বাধ্য হয়ে সোফা মেরামতের কাজ করেন। এলাকার বাসিন্দা উত্তম রাজবংশির কথায়, কাজ চলে যাওয়ায় কেউ মাছ ধরছেন, আবার কেউ টোটো চালাচ্ছেন।