এলাকায় কাজ নেই, দিল্লি পাড়ি দিলেন রায়গঞ্জের যুবকরা

276

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : এলাকায় কাজ না পেয়ে ফের দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন রায়গঞ্জের মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কসবা মোড় এলাকার কয়েকজন যুবক। শনিবার তাঁরা মালদার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখান থেকে আরও কয়েকজন যুবক দিল্লি যাবেন বলে দাবি রায়গঞ্জের যুবকদের। তাঁরা জানান, করোনা সংক্রমণের আবহে লকডাউন শুরু হওয়ায় তাঁরা দিল্লি থেকে ফিরে এসেছিলেন। আর যাওয়ার ইচ্ছা নেই। কিন্তু স্থানীয় পঞ্চায়েত বা প্রশাসন থেকে কোনও কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়নি। এদিকে, সঙ্গে নিয়ে আসা টাকাও শেষ হয়ে গিয়েছে। বাধ্য হয়ে তাই ফের বিপদ জেনেও ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে। তবে মাড়াইকুড়া পঞ্চায়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই যুবকরা কাজের জন্য আবেদনই করেননি। যাঁরা আবেদন করেছিলেন তাঁদের প্রত্যেককে কাজ দেওয়া হয়েছে।

কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়ি ফিরে এসেছিলেন উত্তর দিনাজপুর জেলার কয়েক হাজার শ্রমিক। এঁদের মধ্যে মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রামেরও প্রচুর শ্রমিক বাড়ি ফিরে আসেন। করোনা সংক্রমণ সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে না এলেও লকডাউন শিথিল হয়েছে। নিয়ম মেনে বেশিরভাগ কলকারখানা খুলেছে। স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জীবনযাত্রা। যদিও দেশের রাজধানী দিল্লির অবস্থা অনেকটাই ভয়াবহ। কয়েক হাজার মানুষ সেখানে করোনায় সংক্রামিত। গুরুতর অবস্থা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীরও। কিন্তু সবকিছুকে উপেক্ষা করেই ফের দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন ওই যুবকরা। বেশ কয়েকজন যুবক পরিবার নিয়ে দিল্লির উদ্দেশ্যে এদিন রওনা দিয়েছেন।

- Advertisement -

কসবার বাসিন্দা শংকর মণ্ডল বলেন, লকডাউনের মধ্যে অনেক কষ্ট করে দিল্লি থেকে গ্রামে ফিরে এসেছিলাম। যা জমানো টাকা এনেছিলাম তা প্রায় শেষ। এখানে কাজও জুটছে না। তাই বাধ্য হয়ে দিল্লিতে ফিরে যেতে হচ্ছে। সেখানে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে বেশ ভালো উপার্জন হয়। এখানে আমাদের কোনও কাজ জোটেনি। পঞ্চায়েত থেকে কাজ দেয়নি। কবে কাজ  পাব, সেই আশ্বাস পাচ্ছি না। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।  আরমান আলি নামে আরেক শ্রমিক বলেন, লকডাউনের আগে বাড়ি এসেছিলাম। কিন্তু কোনও কাজ পাচ্ছি না। কাজ না করলে কতদিন এভাবে সংসার চলবে। তাই পেটের দায়ে দিল্লি যাচ্ছি। সেখানকার অবস্থা দিনের পর দিন ভয়াবহ হচ্ছে বলে শুনেছি। কিন্তু এখানে থাকলে কাজ না পেলে সংসার চালাতে পারব না। পরিবারের সবাইকে না খেয়ে মরতে হবে।

গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, এখানে যাঁরা থাকেন, তাঁরা সবাই কাজ পান না। বাইরে থেকে এলে সকলের কাজ পাওয়া দুষ্কর। মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা বিজেপির মাধবচন্দ্র দাস বলেন, এখানে এসে শ্রমিকেরা বিপদে পড়ে গিয়েছে কারণ কোনও কাজ নেই এখানে। পঞ্চায়েত থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের জবকার্ড বানানোর কাজ শুরু হয়েছে। কবে কাজ পাবে ঠিক নেই। তাই অনেকে ফিরে য়াচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, দিল্লিতে থাকাকালীন ওই শ্রমিকরা ভেবেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে এলে তাঁরা ভালো থাকবেন। কাজ জুটে যাবে। কিন্তু এখানে এসে দেখছেন পুরোপুরি উলটো। যদিও  শ্রমিক ও শ্রমিক পরিবারের দাবি মানতে চাননি মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কমল দেবশর্মা। তিনি বলেন, পঞ্চায়েতে ১০০ দিনের প্রকল্পে প্রচুর কাজ। যাঁরা আবেদন করছেন, তাঁদের  কাজে যুক্ত করা হচ্ছে। গ্রাম ছেড়ে যাতে  ভিনরাজ্যে পাড়ি না দেন সে ব্যাপারে  পরিবারগুলির সঙ্গে  যোগাযোগ করব।