নতুনবসে নালার উপর পাকা সেতু হয়নি

পার্থসারথি রায়, সিতাই : প্রতি বছর বর্ষাকালে সাঁকো ভেসে যায়। তখন বাসিন্দাদের নালা পারাপারের উপায় থাকে না। এবার বর্ষাকাল আগত। তাই সিতাই ব্লকের নতুনবস গ্রামের বাসিন্দারা এখন থেকেই যাতায়াত নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। বাসিন্দারা সমস্যা সমাধানে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সিতাই ব্লকের অন্তর্গত ব্রহ্মোত্তরচাতরা গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুনবস গ্রামটি সিঙ্গিমারি নদীর একটি নালা দ্বারা বিচ্ছিন্ন। গ্রামে প্রায় একশোটি পরিবারের বসবাস। সেতু তৈরি না হওয়ায় বাসিন্দাদের নালা পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। কিন্তু বর্ষাকালে সাঁকো ভেসে গেলে এলাকার মানুষ সমস্যায় পড়েন। ওই নালা পেরিয়ে গোসানিমারির কামতেশ্বরী মন্দিরমুখী রাস্তা ধরে বাসিন্দাদের গোসানিমারি, দিনহাটা ও কোচবিহারে যাতায়াত করতে হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, অফিস-আদালত সমস্ত কিছুই নালার অপর পারে। দমকলের গাড়ি ও অ্যাম্বুল্যান্স গ্রামে ঢুকতে পারে না।

- Advertisement -

স্থানীয় অমর সন্ন্যাসী বলেন, নালাটির উপর সেতু তৈরি হয়নি। বাঁশের সাঁকো দিয়ে আমাদের যাতায়াত করতে হয়। বর্ষাকালে সাঁকো ভেসে গেলে নালা পারাপারের উপায় থাকে না। এলাকার ছাত্রছাত্রীরা তখন স্কুলে যেতে পারে না। আমাদের হাটবাজার সহ অন্যত্র যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। অপর বাসিন্দা বিমল সরকার বলেন, যুগ যুগ ধরে গ্রামবাসীদের যাতায়াত সমস্যা সমাধানে প্রশাসন এখানে পাকা সেতু তৈরির পরিকল্পনা নেয়নি। তাই প্রতি বছর বর্ষাকালে সাঁকো ভেসে গেলে আমাদের ঘরবন্দি হতে হয়। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় গ্রামের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অবস্থার উন্নতিও হয়নি। বাসিন্দা হরেন বিশ্বাসও একথা সমর্থন করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সুমিত্রা বর্মন বলেন, ওই এলাকায় নালার উপর পাকা সেতু তৈরি না হওয়ায় বাসিন্দারা যাতায়াতে সমস্যায় রয়েছেন। ওখানে সেতু তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানিয়েছি। তবে বর্ষায় সাঁকোর অভাবে বাসিন্দারা যাতায়াতের সমস্যায় পড়বেন। আমরা ব্যবস্থা নেব।