স্বাধীনতার ৭৩ বছরেও সেতু হয়নি, জল ঠেলে পার হতে হয় নদী

বরুণকুমার মজুমদার, ডালখোলা : পিতানু নদীতে সেতুর দাবিতে সরব হয়েছেন বাসিন্দারা। নদীর একদিকে পশ্চিম প্রান্তের দমদমা, পার শ্রীপুর, নিচামারি, তারাপুর, কোনাটুলি, নবিপুর, সাতভিটা রামপুর গ্রাম। অন্যদিকে শ্রীপুর, চোপড়াবাড়ি, ছোমলিয়া, গাণজনা সহ একাধিক গ্রাম। এখানকার ছাত্রছাত্রীদের নদী পার করে দমদমা হাইস্কুলে যেতে হয়। এই নদীর জল ঠেলে এলাকার বাসিন্দাদের পারাপার করতে হয়। কেউ কেউ সাইকেল কাঁধে করেই পারাপার করেন নদী। বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্বাধীনতার ৭৩ বছর পরেও যাতায়াত ব্যবস্থার এমন হাল।

নদীর পাড়ের বাসিন্দা প্রদীপ সিনহা, আসফাক আলম বলেন, এই নদী পার করেই চাষাবাদ করতে যেতে হয় এলাকার চাষিদের। বর্তমানে ভুট্টা তোলার কাজ চলছে। নদী পার করে বাড়িতে ফসল আনা খুবই কষ্টকর। বাজারগাঁও-২ অঞ্চলে পিতানু নদীর উপরে ছোমলিয়ায় সেতু নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, দ্রুত সেতু নির্মাণ করতে হবে। পঞ্চায়েত থেকে কলার ভেলা দিয়ে আজও যাতায়াত করেন বাজারগাঁও-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সাধারণ মানুষ। করণদিঘি ব্লকের ডালখোলা থানার চাকুলিয়া বিধানসভার মধ্যে পড়ে এই পিতানু নদী। এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ জাহির আনসারি বলেন, প্রাক্তন সাংসদ দীপা দাশমুন্সি, প্রাক্তন সাংসদ মহম্মদ সেলিম সহ চাকুলিয়া বিধানসভার বিধায়ক আলি ইমরান রমজকে অনেকবার আবেদন করেছি কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এছাড়া বর্তমান রায়গঞ্জের সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীকেও বলা হয়েছে। বর্ষাকালে নদীর জল এতটাই ভয়ংকর আকার নেয় যার ফলে এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে এলাকাবাসীকে আশ্রয় নিতে হয় সরকারি ত্রাণ শিবিরে। বর্ষায় কলার ভেলা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয় দমদমা, পার্ক, শ্রীপুর, চোপড়াবাড়ি, পানিহা, কোনাটুলি সহ গোটা পঞ্চায়েের বাসিন্দাদের।

- Advertisement -

স্থানীয় বসিন্দা যামিনীকান্ত সিনহা জানিয়েছেন, ভইষঘাটার সাঁকোর উপর দিয়ে কয়েকশো ছাত্রছাত্রীকে স্কুলে যেতে হয়। শুধু তাই নয়, এলাকার অসুস্থ রোগী ও অন্তঃসত্ত্বাদের খাটিয়া করে নদী পার করে তার পরে মাতৃযানে বা ভুটভুটি করে করণদিঘি অথবা চাকুলিয়া হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। বাজারগাঁও-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শখাওয়াত আনসারি জানান, বর্ষা শুরু হতেই পিতানু নদীতে এখন জল বেড়েছে। নদীতে ব্রিজ না থাকার ফলে কলার ভেলা করেই এপার ওপার হচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। ছোমলিয়া, ভইষঘাটা, রসুনডাঙ্গির জন্য তিনটি নৌকা কেনার বরাত দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েতের তরফে। খুব শীঘ্রই তা নিয়ে আসা হবে। তাতে সমস্যা কিছুটা কমবে। ছোমলিয়ায় ব্রিজ নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, প্রতিমন্ত্রী গোলাম রব্বানি, করণদিঘির বিধায়ক মনোদেব সিনহাকে অনেকবার বলেছি। সুরাহা হয়নি।