হাসপাতালে ঠাঁই মেলেনি, দাইমার সহযোগিতায় সন্তানের জন্ম প্রসূতির

81

বর্ধমান: হাসপাতালের বেডে ঠাঁই না মেলায় বাইরের বিশ্রামাগারে সন্তান প্রসব করলেন প্রসূতি। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রাম-১ ব্লকের গুসকরা হাসপাতালে। এনিয়ে চরম বিক্ষোভ শুরু হয়। তারপরই গুসকরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রসূতি ও তাঁর সন্তানকে ভর্তি করে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রসূতির নাম পিংকি হালাদার(২৮)। তাঁর বাড়ি গুসকরা শহরের অনতি দূরে ভাতার থানার ঝর্ণা গ্রামে। প্রসূতি ও তাঁর পরিবার হাসপাতালে কর্তব্যরত এক নার্স ও চিকিৎসককে ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি কর্তব্যরত ওই নার্স।

প্রসব বেদনা ওঠায় পিংকিকে টোটোয় চাপিয়ে নিয়ে তাঁর শাশুড়ি সন্ধ্যাদেবী ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দাইমা সান্তনা বিশ্বাস এদিন সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ গুসকরা হাসপাতালে পৌঁছোয়। পাড়ার তিন চারজন যুবকও প্রসূতির পরিবারকে সাহায্য করার জন্য হাসপাতালে হাজির হয়। সন্ধ্যাদেবী বলেন, ‘তিনি তাঁর বৌমাকে নিয়ে হাসপাতালে ঢোকার পরই কর্তব্যরত এক নার্স মেজাজ দেখিয়ে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করে। প্রসূতিকে হাসপাতালে ভর্তি করা তো দূরের কথা। প্রসূতির চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখানো সত্ত্বেও ওই নার্স সবাইকে বাইরে বেরিয়ে যেতে বলেন। নার্সের এমন দুর্ব্যবহার সহ্য করে প্রসূতির কথা ভেবে সবাই ডাক্তার বাবুকে ডাকতে যান। ডাক্তার বাবু এসে প্রসূতিকে শুধু বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করে দায় সারেন। তারপর ফের প্রসূতিকে নিয়ে তাঁদের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বলেন কর্তব্যরত নার্স।’

- Advertisement -

তিনি বলেন, ‘বাধ্য হয়ে তাঁরা পিংকিকে হাসপাতাল চত্ত্বরে থাকা বিশ্রামাগারে নিয়ে গিয়ে বসান। পাড়ার ছেলেরা অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে যায়। তারই মধ্যে বিশ্রামাগারেই পিংকি সন্তান প্রসব করে। ওই সময়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনও সহযোগিতা মেলে না। তাঁদের সঙ্গে ভাগ্যিস প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দাইমা সান্তনা বিশ্বাস এসেছিলেন। তাই তাঁর সহযোগীতাতেই পিংকি বিশ্রামাগারেই সন্তানের জন্ম দেন।’

সরকারি হাসপাতালে প্রসূতিকে নিয়ে এসে এমন দুর্ব্যবহার মিলবে তা কল্পনাও করতে পারেন নি বলে প্রসূতির পরিবার পরিজন মন্তব্য করেন। প্রসূতির দুর্দশা দেখে হাসপাতালে উপস্থিত থাকা সবাই ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এরপরই বেগতিক বুঝে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রসূতি ও তাঁর সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আউসগ্রাম-১ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক রাজু সানা জানান, অভিযোগ পেয়েছি। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।