কামাখ্যাগুড়িতে থার্মোকলে ভরে যাচ্ছে নদীনালা

208

গৌতম সরকার, কামাখ্যাগুড়ি : থার্মোকল পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর বলে অনেকদিন থেকেই প্রচার চলছে। তা সত্ত্বেও কামাখ্যাগুড়িতে থার্মোকলের ব্যবহার দিনদিন বেড়েই চলেছে। নদীনালা, খালবিল, ডোবা থার্মোকলের ভাঙা টুকরো, কার্টনে ভরে যাচ্ছে। কামাখ্যাগুড়ি সুপার মার্কেট সহ বাজার, মরা রায়ডাক নদীগর্ভ, নিকাশিনালা ভরে যাচ্ছে থার্মোকলের টুকরোয়। এমনকি খেলার মাঠেও থার্মোকলের টুকরো নজরে পড়ছে। এই প্রবণতা কমাতে না পারলে আগামীদিনে মারাত্মক ফল ভোগ করতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কামাখ্যাগুড়ি সুপার মার্কেটে প্রতিদিন ভিনরাজ্যের ট্রাক থেকে মাছভরতি থার্মোকলের কার্টন নামানো হয়। সেই থার্মোকলের ভাঙা  টুকরো মার্কেট লাগোয়া এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি মাছের থার্মোকলের কার্টন মরা রায়ডাক নদীগর্ভে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মৃদুল দত্ত বলেন, বাজারে মাছের ট্রাক আসার পরই থার্মোকলের টুকরো গোটা বাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বাজারের নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যাও হচ্ছে। আরেক বাসিন্দা জয়দেব পাল বলেন, রাতের অন্ধকারে থার্মোকলের কার্টন, ভাঙা টুকরো ফেলার জন্য রায়ডাক নদীকেই ব্যবহার করা হচ্ছে। জঞ্জাল, আবর্জনা অন্যত্র ফেলার জন্য প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক। থার্মোকলের ব্যবহার পরিকল্পনা মাফিক কমানো না গেলে ভবিষ্যত্ জীবনযাপনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে বলে জানান শিক্ষক পিনাকী সরকার। তিনি বলেন, থার্মোকলের ক্ষতিকর বিষয়ে মানুষের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। যেখানে থার্মোকল বেশি পরিমাণে ব্যবহার হচ্ছে, সেখানকার থার্মোকল যাতে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আরেক শিক্ষক সুব্রত তালুকদার থার্মোকলের ব্যবহার পরিকল্পিতভাবে কমিয়ে আনা ও পরবর্তীতে নষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিকভাবে পদক্ষেপের দাবি তোলেন। থার্মোকলের কার্টনে মাছ আনার ফলে পরিবেশে যেমন প্রভাব পড়ছে, তেমনি এলাকা দূষণও হচ্ছে বলে কার‌্যত মেনে নিয়েছেন কামাখ্যাগুড়ি মাছ ব্যবসাযী সমিতির সম্পাদক দেবেশ বর্মন। তিনি বলেন, মাছ পরিবহণের ক্ষেত্রে থার্মোকল ব্যবহার বন্ধ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা দরকার। এ প্রসঙ্গে কামাখ্যাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সঞ্জয় পাল বলেন, থার্মোকল নিয়ে যে সমস্যা হচ্ছে, তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

- Advertisement -