তারা মায়ের আবির্ভাব তিথিতে মাতল গাজোলবাসী

469

গাজোল: দুর্গাপুজোর পর কালীপুজো, মাঝখানে থাকে বেশ কয়েকটি দিন। এই সময় উৎসবে ভাটা পড়ে আম বাঙালির। কিন্তু ঠিক এই সময়টাতেই আরেকটি বড় উৎসবে মেতে ওঠে গোটা গাজোলবাসী। সেটি হল তারা মায়ের আরাধনা। গাজোলের তারা তলায় রয়েছে তারা মায়ের সুরম্য মন্দির। সেই মন্দিরে মায়ের নিত্য পুজো হয়।

তবে কৌশিকী অমাবস্যা এবং তারা মায়ের আবির্ভাব তিথিতে ধুমধাম করে পুজো হয় মায়ের। ১২-১৩ দিন ধরে চলে নানা ধরনের অনুষ্ঠান। পুজোকে কেন্দ্র করে মন্দিরের পিছনের মাঠে বসে বিরাট মেলা। অনুষ্ঠিত হয় আদিবাসী নৃত্য প্রতিযোগিতা। হাজারেরও বেশি মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন বস্ত্র। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে তারা মায়ের মন্দিরে। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতির জন্য বাতিল করা হয়েছে সমস্ত অনুষ্ঠান। তবে সমস্ত নিয়ম এবং আচার মেনে ষোড়শোপচারে তান্ত্রিক মতে অনুষ্ঠিত হবে মায়ের পুজো।

- Advertisement -

আজ শুক্লা চতুর্দশী, তারা মায়ের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষ্যে তারাপীঠেও ধুমধাম করে হবে মায়ের পুজো। বছরের একমাত্র এই দিনটিতে তারাপীঠ মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে মায়ের বিগ্রহকে নিয়ে আসা হয় বিরামখানায়। ঝাড়খণ্ডের মুলুটির মৌলিক্ষা মায়ের মন্দিরের দিকে থাকে তারা মায়ের মুখ। সারাদিন মা অবস্থান করেন সেখানে। লক্ষ লক্ষ ভক্ত দর্শন করেন মাকে। এরপর রাতের বেলা মায়ের বিগ্রহকে আবার নিয়ে যাওয়া হয় গর্ভগৃহে।

তারপর অনুষ্ঠিত হয় মায়ের বিশেষ পুজো। এই দিনটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তারাপীঠে আসেন প্রচুর সাধক এবং তান্ত্রিকরা। তারাপীঠ মহাশ্মশান এ সাধনায় রত হন তাঁরা। লক্ষ লক্ষ ভক্তেরও সমাগম হয় সেখানে। একইভাবে মায়ের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে গাজোলের তারা মায়ের মন্দিরেও অনুষ্ঠিত হয় ষোড়শোপচারে মায়ের পুজো। গতকাল বর্ণময় শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে মহিলারা নিয়ে আসেন ১০৮ কলসি জল। সেই জল দিয়ে জলাভিষেক হয় মায়ের। এদিন মধ্যরাত থেকে তান্ত্রিক মতে শুরু হবে মায়ের পুজো। তারা মায়ের পুজোর আগে রীতি মেনে প্রথমে অনুষ্ঠিত হবে বামদেব,মহাদেব এবং বজরংবলীর পুজো। পুজোকে কেন্দ্র করে মেতে উঠেছেন এলাকার মানুষেরা। দুপুর থেকেই চলছে ভোগ প্রসাদ জমা নেওয়ার কাজ।

পুজো কমিটির পক্ষে রণদা সরকার, উদয় দাস জানালেন এবার তারা মায়ের পুজো ৩৫ বছরে পা দিল। আগে অস্থায়ী মন্ডপে মায়ের পুজো হলেও বর্তমানে ভক্তদের দানে তৈরি হয়েছে মায়ের বিশাল মন্দির। সেই মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে মায়ের প্রস্তর মূর্তি।কৌশিকী অমাবস্যা এবং মায়ের আবির্ভাব তিথিতে মাকে রাজবেশ পড়ানো হয়। বিভিন্ন অলংকারে সজ্জিত করা হয় মাকে। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সম্পূর্ণ তান্ত্রিক মতে চলে মায়ের পুজো।

অন্যান্য বছর পুজোকে কেন্দ্র করে ১০-১২ দিন ধরে চলে নানা ধরনের অনুষ্ঠান। মন্দিরের পিছনের মাঠে বসে মেলা। হাজারেরও বেশি দুঃস্থ মানুষদের বস্ত্র বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে আদিবাসীরা এসে এখানে নাচ গান পরিবেশন করেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জন্য এবার সমস্ত কিছু বন্ধ রাখা হয়েছে।আমি শুক্রবার এবং শনিবার মায়ের ভোগ প্রসাদ বিতরণ চলবে। পুজোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর মানুষ আসেন। অনেকের মানত থাকে, ছাগ বলিও দেন অনেকে।

মায়ের পুজোতে তারাও হয়তো এবারেও আসবেন। তবে কঠোরভাবে মানতে হবে সামাজিক দূরত্ববিধি। সকলের জন্য মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক। মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা থাকবে মাস্ক এবং স্যানিটাইজারের।তাই সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী করোনা বিধি মেনেই এবার হবে মায়ের পুজো।