স্বাধীনতা সংগ্রামের এই তীর্থভূমি এখন শুয়োরের বিচরণক্ষেত্র

201

জলপাইগুড়ি: এই লজ্জা কার? জলপাইগুড়িতে স্বাধীনতা সংগ্রামের তীর্থভূমিতে চষে বেড়াচ্ছে শুয়োরের পাল। শহরের পান্ডাপাড়ার হরিজন বস্তিতে গেলে প্রতিদিনই এই দৃশ্য দেখা যাবে। অথচ ১৯৩৯ সালে এখানেই বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের অধিবেশন হয়েছিল। এই সম্মেলন মঞ্চ থেকেই সুভাষচন্দ্র বসু ইংরেজকে ভারত ছাড়া করবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সুভাষচন্দ্রের জলপাইগুড়ির এই বক্তৃতা ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের রুপরেখা তৈরিতে সহায়তা করেছিল। জলপাইগুড়ির সম্মেলন মঞ্চেই সুভাষচন্দ্র টেলিগ্রামযোগে খবর পান গান্ধীজির মনোনিত প্রার্থী পট্টভি সীতারামাইয়াকে পরাজিত করে তিনি কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছেন। জলপাইগুড়িতে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস সম্নেলনে তখন এসেছিলেন শরৎ বসু, কমিউনিস্ট নেতা বঙ্কিম মুখোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায়ের পাশাপাশি সুরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। এহেন গুরুত্বপূর্ণ জায়গাকে এতদিনেও স্মারক হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। স্বাধীনতা দিবসে এখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না। শুয়োয়ের পাল চষে বেড়ালেও পুরসভা কার্যত নীরব দর্শক।

অবশ্য, পুরসভার পক্ষ থেকে হরিজন বস্তিতে নেতাজির মর্মর মুর্তি স্থাপন করা থেকে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপণ করার মতো গালভরা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। জলপাইগুড়ি পুরসভার প্রশাসকমন্ডলীর সদস্য সন্দীপ মাহাতো জানান, তাঁরা দ্রুত হরিজন বস্তিতে নেতাজির মুর্তি স্থাপনের চেষ্টা করছেন। যদিও দেশের প্রথম নেতাজি মূর্তিটি রয়েছে জলপাইগুড়িতেই। শহরে করলা নদীর পাড়ে ইন্ডিয়ান টী প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের অফিস সংলগ্ন এলাকায় কবিরাজ সতীশ লাহিড়ীর নেতৃত্বে পঞ্চাশের দশকে এই মুর্তিটি স্থাপিত হয় বলে জানা গেছে। তখন কোহিমা থেকে শহিদ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অস্থি এনে এখানকার মাটিতে রাখা হয়েছিল।

- Advertisement -