এবার প্রশ্নের মুখে শংকরের প্রার্থীপদ, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’, ‘ক্ষমতালোভী’ বলে তোপ দলের একাংশের

139

শিলিগুড়ি: প্রার্থী নিয়ে বিজেপির অন্দরে ক্ষোভ এবার শিলিগুড়িতেও। ইতিমধ্যেই সিপিএম ত্যাগী যুবনেতা শংকর ঘোষকে শিলিগুড়ি বিধানসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি। মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচারও শুরু করে দিয়েছেন শংকর।কিন্তু তার পরেই ছন্দপতন। প্রাক্তন সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বিজেপিরই নেতা কর্মীদের একাংশ। রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে শংকর ঘোষ তো বটেই দলীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। এদিন বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি নৃপেন দাস, দলের চিকিৎসক সংগঠনের নেতা কৃষ্ণেন্দু দে, আইনজীবী নেতা কল্যাণ সাহাকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন।

নৃপেনবাবুর অভিযোগ, শংকর ঘোষ দুর্নীতিগ্রস্ত, ক্ষমতালোভী ও স্বার্থপর। যিনি দুদিন আগে পর্যন্ত বিজেপিকে তুমুল গালমন্দ করে এসেছেন তিনি দলের প্রার্থী হতে পারেন না। কোনও ভাবেই যাতে শিলিগুড়ির মানুষ শংকর ঘোষের পাশে না দাঁড়ান সেই আবেদনও জানান তিনি। দলের জেলা সভাপতি প্রবীণ আগরওয়ালকেও একহাত নিয়েছেন নৃপেনবাবু। তিনি জানিয়েছেন সভাপতি দলীয় দপ্তর নির্মাণে সাত কোটি টাকার কোনও হিসেব দেননি।তার বিরুদ্ধে মামলা করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -
এবার প্রশ্নের মুখে শংকরের প্রার্থীপদ, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’, ‘ক্ষমতালোভী’ বলে তোপ দলের একাংশের| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India
সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপির প্রবীণ নেতারা

নৃপেনবাবুর পাশে বসা চিকিৎসস কৃষ্ণেন্দু দেও অভিযোগ করেন, দলের দীর্ঘদিনের কর্মী যারা আক্রান্ত হয়েছেন বা মারা গিয়েছেন, তাঁরা সম্মান পাচ্ছেন না।যদিও বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে নৃপেনবাবুর মতের সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের ফারাক উঠে আসে। ক্ষোভ থাকলেও নৃপেনবাবু বিজেপিকে জেতানোর পক্ষেই সওয়াল করেছেন। অন্যদিকে শংকর ঘোষকে নিয়ে ক্ষোভের আঁচ মিলেছে অন্যত্রও। শুক্রবার রাতে শংকর ঘোষের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায়। আর এই পোস্টারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শহরজুড়ে। শহরের হিলকার্ট রোড, বিধান রোড, হাসপাতাল মোড়, কলেজ পাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় এই পোস্টার দেখা যায়। তবে কে বা কারা রাতের অন্ধকারে এই পোস্টারগুলি লাগিয়েছে তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। তবে প্রার্থী নিয়ে বিজেপির অন্দরে যে ক্ষোভের চোরাস্রোত বইছে তা এই পোস্টার থেকেই অনেকটা স্পষ্ট।

বিজেপির রাজ্য স্তরের এক নেত্রী শংকর ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্টও করেন। দলের আরও এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা রথীন বোসও ফেসবুকে হতাশা প্রকাশ করে ইঙ্গিতবাহী পোস্ট করেছেন। সব মিলিয়ে শংকর ঘোষকে নিয়ে বিজেপির অন্দরের পরিস্থিতি যথেষ্টই অস্বস্তিকর। শহরে তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টার পড়া প্রসঙ্গে শংকর ঘোষ জানান, যা সত্য নয় তাই রাতের অন্ধকারে হয়। বিষয়টিকে তিনি গুরুত্ব দিতে নারাজ৷ পাশাপাশি বিষয়টি শিলিগুড়ি জেলা সাংগঠনিক সভাপতি প্রবীণ আগরওয়ালকে জানাবেন এবং পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি প্রবীণ আগরওয়ালকে এবিষয়ে জানতে চেয়ে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে তেমন কিছুই বলার নেই। দল যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমি তারই পালন সর্বদা করেছি। কারোর যদি কোনও অভিযোগ থেকে থাকে তাঁরা দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের কাছে জানাতেই পারেন।’ এদিন প্রবীণবাবু বলেন, ‘যারা দলের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য পদক্ষেপ করা হবে।’ পাশাপাশি পোস্টার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের সমস্ত কার্যকর্তারা একজোটেই আছেন। ওঁকে (পড়ুন শংকরকে) সমর্থন করেছেন। দলের প্রতিটি কর্মীর কথা দল শোনে। সুতরাং এই পোস্টারিং যা হয়েছে তা বিরোধীরাই করেছে কি না তা এখন বিশাল বড় প্রশ্ন।’