সরকারি কৃষি খামারে চাষে এবার বেসরকারিকরণ

138

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : রাজ্য সরকারি কৃষি ব্যবস্থাতেও এবারে বেসরকারিকরণের ছায়া। বাড়ছে উদ্বেগ।  কোচবিহার জেলা কৃষি দপ্তর কোচবিহারের সরকারি কৃষি খামারগুলিতে বীজ তৈরি, চারা রোপণ সহ চাষবাসের বিভিন্ন দায়িত্ব এবারে বেসরকারি এজেন্সিকে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে কোচবিহারের একটি নামী এজেন্সির সঙ্গে কথাবার্তা সারা হয়েছে। পাশাপাশি, দপ্তরের রাজ্যস্তরেও কথাবার্তা চলছে। সূত্রের খবর, সবুজ সংকেত মিললে শীঘ্রই সংস্থাগুলির হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। কোচবিহারের সাতমাইলের সতীশ ক্লাব ও পাঠাগার ইতিমধ্যেই মাথাভাঙ্গার সরকারি কৃষি খামারে বীজ তৈরির কাজ শুরুও করেছে বলে জানিয়েছে। যদিও কোনও টেন্ডার ছাড়াই একটি সংস্থা কীভাবে এই কাজ পেতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি, কৃষিক্ষেত্রে বেসরকারিকরণের ছায়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কৃষক সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কোচবিহারের উপ কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) পুনর্বসু দে বলেন, নানা সমস্যার কারণে আমরা বড় এজেন্সিকে দিয়ে খামারগুলিতে বীজ তৈরির চিন্তাভাবনা করছি। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই কোচবিহারের সাতমাইলের সতীশ ক্লাব ও পাঠাগারের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে কথা বলেছি। পরিকাঠামোগত সুবিধা থাকায় ওদের মাধ্যমে ভালোভাবে একাজ করা যাবে। পাশাপাশি, উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণগত মান দুই-ই বাড়বে। সারাভারত কৃষকসভার রাজ্য কমিটির সদস্য তথা সিপিএমের কোচবিহারের জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের মতো রাজ্য সরকারও কৃষিক্ষেত্রে বেসরকারিকরণের পথে হাঁটছে। কোচবিহার জেলা কৃষি দপ্তরের সাম্প্রতিকতম উদ্যোগে কৃষকরা সরকারি মূল্যে কৃষিবীজ কেনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। বামফ্রন্টের সমস্ত কৃষক সংগঠনকে নিয়ে অমরা আন্দোলনে নামব।

- Advertisement -

জেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, কোচবিহার শহরে ডিস্ট্রিক্ট সিড ফার্ম, মাথাভাঙ্গা মহকুমায় মাথাভাঙ্গা-১, ২ ব্লক এবং শীতলকুচিতে একটি করে মোট তিনটি, দিনহাটা মহকুমায় দিনহাটা ও সিতাইয়ে একটি করে মোট দুটি, মেখলিগঞ্জ মহকুমায় মেখলিগঞ্জ ও হলদিবাড়িতে একটি করে মোট দুটি এবং তুফানগঞ্জের বারকোদালিতে একটি কৃষিখামার রয়েছে। খামারগুলিতে চাষাবাদের মাধ্যমে যে বীজ উৎপাদন করা হয় হয় সেগুলি সরকারি মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়। এতে কৃষকরা উপকৃত হন। তবে খামারগুলিতে কৃষিজমি থাকলেও সেগুলিতে বীজ তৈরি করা বা চাষাবাদের জন্য সরকারি কৃষিশ্রমিক প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে বাইরে থেকে শ্রমিক এনে কাজ করাতে হয়। কিন্তু অনেকসময় তহবিলে টাকা না থাকায় শ্রমিকদের টাকা দিতে সমস্যা হয়। এমন নানা সমস্যার জেরে উৎপাদনের পরিমাণ কমার পাশাপাশি গুণগত মানেও প্রভাব পড়ে।

সাতমাইল সতীশ ক্লাব ও পাঠাগারের সভাপতি অমল রায় বলেন, ফার্মার্স প্রোডিউসার অর্গানাইজেশনগুলিকে তৈরি ও প্রতিষ্ঠিত করতে নাবার্ড আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। জেলার কৃষি আধিকারিকদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। খামারগুলিতে ধান চাষের জন্য জমি প্রস্তুত, বীজ তৈরি, মেশিন দিয়ে রোপণ, মনিটরিং, মেশিন দিয়ে ধান কাটার দায়িত্ব আমাদের দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, তাঁদের অধীনে জেলায় বিভিন্ন ফার্মার্স ক্লাব ও অর্গানাইজেশন রয়েছে। ফার্মগুলিতে কর্মরত স্থানীয় শ্রমিকদের পাশাপাশি এই ফার্মার্স ক্লাবগুলিকে দিয়ে তাঁরা কাজ করবেন।

অমলবাবু বলেন, তিন বছর ধরে আমরা কোচবিহার কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের ফার্ম ও উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মে চারা রোপণ, ধান কাটা এবং ঝাড়ার কাজ করে আসছি। আমরা ইতিমধ্যেই মাথাভাঙ্গায় সরকারি কৃষি খামারে বীজ তৈরির কাজ শুরু করেছি। সরকারি কৃষি খামারগুলিতে যত জমি রয়েছে এতদিন তার প্রায় ৯৯ শতাংশই খালি পড়ে থাকত। এবার সেগুলিতে চাষ হবে। এর ফলে জেলাতে অনেক বেশি গুণগত মানের বীজের উৎপাদন হবে। এতে জেলায় ফসলের উৎপাদনও বাড়বে।