সাদামাটাভাবেই এবার বালুরঘাট কলেজে সরস্বতী পুজো

116

বালুরঘাট: গত বছর লকডাউনের প্রথম লগ্ন থেকেই বন্ধ হয়ে রয়েছে কলেজের পঠন পাঠন। কলেজের গেটে তালা ঝুললেও শুধু নিয়ম রক্ষার্থে সরস্বতী পুজোর আয়োজন করতে চলেছে বালুরঘাট কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজ জুড়ে পুজো আয়োজনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। তবে বিগত বছরগুলোর মতো এই বছর পড়ুয়াদের জন্য প্রসাদ বিতরণের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। এমনকি পুজো প্রাঙ্গনের চারদিক জুড়ে অবাধ প্রবেশের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একসঙ্গে এক জায়গায় অতিরিক্ত পরিমানে ভিড় এড়ানোর জন্য বিশেষ নজর রাখা হবে। সরস্বতী পুজোর দিন কলেজে আসা পড়ুয়াদের মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি, কলেজের মূল ফটকে স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হবে ও যারা মাস্ক পরে আসবে না তাদের মাস্ক দেওয়া হবে। অন্যদিকে, বালুরঘাটের সমস্ত স্কুল ও কলেজকে সরস্বতী পুজো উপলক্ষে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

চলতি বছরে কলেজ বন্ধ থাকার মধ্যেও সরস্বতী পুজোর আয়োজনের প্রসঙ্গে বালুরঘাট কলেজের অধ্যাপক তথা বাংলা বিভাগের প্রধান রিপন সরকার জানান, প্রতি বছর কলেজে সরস্বতী পুজো অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই রীতিকে বজায় রাখার পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পুজো আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি, সরস্বতী পুজো আয়োজনকে কেন্দ্র করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেখানে কলেজের বিভিন্ন বিষয়ের অধ্যাপক থেকে শুরু করে ছাত্র প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। প্রতি বছর সরস্বতী পূজা দিন পড়ুয়াদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণের অনুষ্ঠান থাকলেও এই বছর দূরত্ব বজায় রাখার তাগিদে সেই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। তবে কলেজ খুললে তথা ছাত্রছাত্রীরা কলেজে আসা শুরু করলে একদিন পড়ুয়াদের সরস্বতী পূজা উপলক্ষে খাওয়ানোর কথা পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

- Advertisement -

বন্ধুবান্ধবদের উপস্থিতিতে এই বছর সরস্বতী পুজো কলেজে পালন না হওয়ায় মন খারাপ পড়ুয়াদের। এই বিষয়ে কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া মনি দাস জানায়, কলেজের গুটিকয়েক ছাত্রছাত্রীরা এবার সরস্বতী পুজোর আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। প্রতি বছর পুজো প্রাঙ্গনে পড়ুয়াদের প্রচুর ভিড় হয়। সেই কথা মাথায় রেখে এবার প্যান্ডেলের সামনের মাঠ পুরোটা জুড়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। বেশি সংখ্যক পড়ুয়া এবার কলেজে একসঙ্গে থাকতে পারবেন না এবং অল্প সংখ্যা ছাত্রছাত্রীরা কলেজে প্রবেশ করে প্রতিমা দর্শন করে তৎক্ষণাৎ চলে যাবে। পাশাপাশি, কলেজ গেটের সামনে স্যানিটাইজার ও মাস্ক রাখা থাকবে। যারা মাস্ক পরে আসবে না, তাদের মাস্ক দেওয়া হবে বলে কলেজ সূত্রে খবর। অন্যদিকে, প্রতিবছরের মতো এবার প্রসাদ বিতরণের আয়োজন রাখা হয়নি। যার জেরে অনেক পড়ুয়াদের মন খারাপ। কারণ প্রসাদ বিতরণের সময় বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে দেখা করে বিগত বছরগুলোতে আনন্দে মেতে উঠতো ছাত্রছাত্রীরা।