গোল নষ্টে নরক যন্ত্রণা মুলারের

লন্ডন : দিনের সহজতম সুযোগ পেয়েছিলেন। তাঁর মতো অভিজ্ঞ ফুটবলার সেই শট বাইরে মারবেন, তা হয়তো প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের ফুটবলাররাও ভাবতে পারেননি।

কিন্তু বাস্তব বড়ই নির্মম। ইউরো কাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর জার্মানির সমর্থকদের কাঠগড়ায় টমাস মুলার। অথচ ১১ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্লুমফন্টেইনের ফ্রি স্টেট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টারে একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে বিশ্বমঞ্চে নিজের উপস্থিতির কথা জানান দিয়েছিলেন।

- Advertisement -

ম্যাচে আর মিনিট দশেক বাকি। বল নিয়ে সোজা ইংল্যান্ডের বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন মুলার। সামনে গোলরক্ষক জর্ডন পিকফোর্ড একা। নিখুঁত ফিনিশের বদলে পোস্টের কিছুটা দূর থেকে বলের মাঠের বাইরে চলে যাওয়া দেখলেন মুলার। সঙ্গে সঙ্গেই হাঁটু গেড়ে মাঠে বসে পড়লেন। মুলারের জন্য বুমেরাং হয়ে ফিরছে ম্যাচের আগে সাক্ষাৎকারে বলা কথা। তিনি বলেন, দুদেশের লড়াইয়ে কথা জানি। আমরা আগেও ওদের নকআউট করেছি। এবারও সেই কাজ চালিয়ে যাব। কিন্তু বাস্তবে তা আর হল কোথায়! সমর্থকদের মতে, সেসময় সমতা ফেরাতে পারলে ইংল্যান্ডের উপরে চাপ বাড়ানো যেত। হয়তো সেই চাপের মুখে গ্যারেথ সাউথগেটের ছাত্ররা ভেঙেও পড়তেন। কিন্তু মুলারের মিসে সব আশা শেষ হয়ে যায়।

গোল নষ্টের পর মাথায় হাত দিয়ে হাঁটু ভেঙে বসে থাকার ছবি পোস্ট করে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন মুলার। লিখেছেন, সুযোগ হাতছাড়া করে খুব খারাপ লাগছে। গোল নষ্টের পর মনে হচ্ছে যেন নরক যন্ত্রণা ভোগ করছি। এই স্মৃতি শেষদিন পর্যন্ত ভুলতে পারব না। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে উঠে বসতে বাধ্য করবে। যতদিন আমি ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকব- ফুটবলার হিসেবে, কোচ হিসেব বা অন্য কোনও ভাবে, এটা ভোলা যাবে না। দলকে ডোবানোর দায় নিজের উপরেই নিয়েছেন, সকলে আমার উপর ভরসা করেছিল। একা হাতে দলকে খেলায় ফেরাতে পারতাম। কোচ আমার উপর বাজি ধরেছিলেন। কিন্তু আমি সবাইকে হতাশ করেছি।