প্রতারকদের হাতে কয়েক হাজার এটিএম পিন, তদন্তে এসটিএফ-সিআইডি

157

শিলিগুড়ি: শিলিগুড়িতে এটিএম প্রতারণা কাণ্ডে পৃথক তদন্ত শুরু করল সিআইডি। এসটিএফের (স্পেশাল টাস্ক ফোর্স উত্তরবঙ্গ) অভিযানে ধৃত দুই অভিযুক্তকে শিলিগুড়ি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলেও ঘটনার তদন্ত করবে এসটিএফ এবং সিআইডি। সূত্রের খবর, ধৃতদের হাতে এ রাজ্যের পাশাপাশি ভারতের একাধিক রাজ্যের বহু মানুষের এটিএমের পিন রয়েছে। তাই নবান্নের নির্দেশে সিআইডিও পৃথক তদন্ত শুরু করেছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও সিআইডির কোনও কর্তা মুখ খুলতে চাননি। সিআইডির স্পেশাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট (এসএস) ডেভিড লেপচাকে ফোন করা হলে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানান। এডিজি সিআইডি সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে ফোন এবং এসএমএস করা হলেও কোনও জবাব মেলেনি।

রাজ্যের দুই তদন্তকারী সংস্থার পাশাপাশি শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার বিশেষজ্ঞ এবং এনজেপি থানার পুলিশও তদন্তে সহযোগিতা করবে বলে জানা গিয়েছে। সেইমতো শনিবার শিলিগুড়ি পুলিশের সাইবার ক্রাইম থানার আধিকারিকদের সঙ্গে কথাও বলেছেন এসটিএফের ডিএসপি সুদীপ ভট্টাচার্য। শনিবার অভিযুক্ত দুজনকে নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে তুলে দশদিনের হেপাজতে নিয়েছে। হেপাজতে নিয়ে শিলিগুড়ি ফিরতেই এসটিএফ অভিযুক্তদের জেরা শুরু করেছে। শীঘ্রই সিআইডিও অভিযুক্তদের জেরা করবে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য পুলিশের এসটিএফের ইনস্পেকটর জেনারেল রাজেশ যাদব বলেন, শিলিগুড়িতে দুটি পৃথক অভিযান হয়েছে। গোটা ঘটনায় আন্তঃরাজ্য যোগ রয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

শুক্রবার রাতে শিলিগুড়ির নিউ জলপাইগুড়ি থানার ফুলবাড়ি মার্ডার মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করেন রাজ্য পুলিশের এসটিএফ উত্তরবঙ্গের আধিকারিকরা। এসটিএফের ইনস্পেকটর বিশ্বাশ্রয় সরকারের নেতৃত্বে পুলিশের দলটি ফিল্মি কায়দায় তাড়া করে অভিযুক্তদের ধরে। পুলিশকে দেখে পালাতে গিয়ে একজন পায়ে চোটও পায়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের জেরা করে এমন বেশ কিছু তথ্য মিলেছে যা থেকে স্পষ্ট, অভিযুক্তরা আন্তঃরাজ্য প্রতারণাচক্রের সঙ্গে যুক্ত। সূত্রের খবর, ধৃতদের হেপাজত থেকে ৫২টি এটিএম কার্ড, বেশ কয়েটি এটিএম ক্লোনিং মেশিন, মিনি সোয়াইপ মেশিন এবং একটি ডায়ারি পাওয়া গিয়েছে। ছোট ওই ডায়ারিতে হাজারের কাছাকাছি ফোন নম্বর এবং এটিএমের পিন নম্বর লেখা রয়েছে। কোন মাসে, কত তারিখে কোন ফোন নম্বরে কথা বলা হয়েছে, সেখান থেকে পাওয়া এটিএম কার্ডের পিন নম্বর সমস্ত পরপর লেখা রয়েছে।

এসটিএফ সূত্রে খবর, অভিযুক্তরা গুয়াহাটি থেকে হরিয়ানার দিকে যাচ্ছিল। শিলিগুড়িতে আসার আগে অভিযুক্তরা একটি শপিং মলে ঢুকে সেখানে কয়েক হাজার টাকার জামাকাপড় কেনে। সেখানেও এটিএম কার্ড দিয়ে প্রতারণা করেই বিল মেটানো হয়েছে। অভিযুক্তদের হেপাজত থেকে নগদ ১ লক্ষ টাকাও পেয়েছে পুলিশ। সেই টাকাও প্রতারণা করে এটিএম থেকে তোলা হয়েছে। হরিয়ানা এবং দিল্লির দুই প্রতারকের নিজস্ব বড় দল রয়েছে, যারা প্রতারণার কাজ করে বলে জেরায় পুলিশকে জানিয়েছে। তাই বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ পেতে প্রয়োজনে ধৃতদের নিয়ে হরিয়ানা, দিল্লি যেতে পারে পুলিশ। তবে তার আগে এ রাজ্যে অভিযুক্তদের সাগরেদদের খোঁজার কাজ শুরু করে দিয়েছে এসটিএফ। অভিযুক্তদের সঙ্গে এ রাজ্যে কাদের যোগ রয়েছে তার খোঁজ পেতে পুরোনো ক্রাইম রেকর্ড খতিয়ে দেখছে সিআইডি। তদন্তকারীদের ধারণা, অভিযুক্তরা দেশজুড়েই প্রতারণাচক্র চালাচ্ছে। তাই প্রয়োজনে অন্যান্য রাজ্যের পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হতে পারে।