গাজোলে জলের নীচে হাজার হাজার বিঘা জমি

গৌতম দাস, গাজোল : একে করোনায় রক্ষে নেই, দোসর হয়েছে বন্যার আশঙ্কা। বর্ষার মরশুমে বিভিন্ন নদীর জলস্তর বেড়ে প্লাবিত গাজোলের বহু এলাকা। জলের তলায় চলে গেছে হাজার হাজার বিঘা জমি। জল ঢুকে পড়েছে বসতি এলাকাতেও। যার জেরে বন্যায় ভেসে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন গুনছেন গাজোলের কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে টাঙন, মরা টাঙন, মহানন্দা ও শ্রীমতী নদী সংলগ্ন এলাকার মানুষ তীব্র আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

চাকনগর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সাধুচরণ বিশ্বাস ও পঞ্চায়েত কর্মী রতনকুমার বিশ্বাস জানালেন, এখনও পর্যন্ত বসতি এলাকা তেমনভাবে প্লাবিত না হলেও জলের তলায় চলে গিয়েছে হাজার হাজার বিঘা জমি। চাকনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান একটা দ্বীপের মতো। এর পূর্ব দিকে রয়েছে টাঙন এবং পশ্চিম দিকে রয়েছে মরা টাঙন নদী। বেশ কয়েকদিন আগে ভেঙে যায় টাঙন নদীর বাঁধ। যার ফলে প্রবল বেগে জল ঢুকতে থাকে বিভিন্ন এলাকায়। যদিও পঞ্চায়েতের তরফে শালবল্লা এবং বালির বস্তা দিয়ে কোনওরকমে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গিয়েছে। কিন্তু দিনের পর দিন লাগাতার বৃষ্টির জেরে নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে বৈরডাঙ্গি, হবিনগর, ডোবা খোকসান, জোত ভৈরব, গঙ্গারামপুর, বিলকাঞ্চন প্রভৃতি মৌজার ১০-১২টি গ্রাম। কিছু জায়গায় বাড়িঘরও ডুবেছে। সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে চাষের জমি। বিশেষ করে যাঁরা পাট চাষ করেছিলেন তাঁরা প্রায় সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছেন। সমস্ত রিপোর্ট বিডিও এবং কৃষি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

- Advertisement -

শুধু চাকনগর নয়, প্লাবিত হয়েছে পাশের গ্রাম পঞ্চায়েত সালাইডাঙার বহু এলাকাও। এই গ্রাম পঞ্চায়েতের মহম্মদপুর, ইমামনগর, পোলাডাঙা, জামডাঙা, সূর্যনগর, শান্তিনগর, মহিষাল, নয়াপাড়া, বিধাননগর প্রভৃতি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আংশিকভাবে প্লাবিত হয়েছে অনন্তপুর, বারডাঙ্গা, আহিল, হাটনগর প্রভৃতি এলাকা। গাজোলের পশ্চিম দিকে শ্রীমতী নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে করকচ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আরাজি মিশ্রবাটি, আহোড়া, কাঞ্চননগর, উত্তর মালডাঙ্গা, উত্তর মাহিনগর প্রভৃতি এলাকার বেশ কিছু অংশ। ভালো ক্ষতি হয়েছে আলাল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিস্তীর্ণ অংশে। শ্রীমতী ও মহানন্দার জলে প্লাবিত হয়েছে এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার শ্রীকৃষ্ণপুর মহাকালবোনা, ইটবান্ধা, সুরমণি, ঘুঘুটোলা, কিসমত সুলতানপুর প্রভৃতি এলাকা।

প্লাবিত এলাকার বাসিন্দা রেজাউর রহমান, উত্তম রায়, নিমাই সরকাররা জানান, এলাকার পরিস্থিতি খুবই খারাপ। দুই নদীর জলে প্লাবিত হাজার হাজার বিঘা জমি। এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পাটের জমি। সেই সমস্ত জমির পাট প্রায় শেষ। অনেকে চরম বিপদকে অগ্রাহ্য করে জলে ডুবে পাট কেটে নিয়ে আসছেন। বেশিরভাগ জমির পাট নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবে আশার কথা একটাই, এদিন জল আর বাড়েনি। বরং ইঞ্চিখানেক জল কমেছে। নেপাল, ভুটান কিংবা তরাই-ডুয়ার্সে যদি বৃষ্টি বন্ধ থাকে তাহলে জল অনেকটা নেমে যাওয়ার আশা থাকছে। তবে অনেক সময় দেখা যায় ভাদ্র-আশ্বিন মাসে বৃষ্টির জেরে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে যদি আরও বৃষ্টি হয় তাহলে বসতি এলাকা ডুবে যাবে। এমনিতেই বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে গাজোলের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। এখন যোগাযোগের মূল ভরসা নৌকা।