পিএইচই’র পাইপলাইন ভেঙে যাওয়ায় জল পাচ্ছেন না কয়েক হাজার মানুষ

নিউ পলাশাবাড়ি এলাকায় জাতীয় সড়কের পাশে পিএইচই-র পাইপ ভেঙে পানীয় জলের অপচয়।

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি মহাসড়কের কাজ করতে গিয়ে নিউ পলাশবাড়ি এলাকায় প্রায় দু’মাস আগে পিএইচই-র জলের মূল পাইপ ভেঙে যায়। এরপর থেকে পরিস্রুত পানীয় জল পাচ্ছেন না গুদামটারি, মেজবিল, পশ্চিম কাঁঠালবাড়ি, পুঁটিমারি মোড় এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।

বাসিন্দাদের অধিকাংশই বাধ্য হয়ে নলকূপের দূষিত জল খাচ্ছেন। যাঁদের সামর্থ্য রয়েছে, তাঁরা জারের জল কিনে নিচ্ছেন। এদিকে বর্ষাকালে নলকূপের জলে দূষণের মাত্রা বাড়ছে। এজন্য অনেকের পেটের অসুখ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁরা মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ ও পিএইচই-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে মহাসড়ক কর্তৃপক্ষের দাবি, বিষয়টি লিখিতভাবে পিএইচই-কে জানানো হয়েছে। পিএইচই কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছে।

- Advertisement -

গত বছর থেকে ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি ৪১ কিমি রাস্তায় চার লেনের মহাসড়কের কাজ শুরু হয়। এই মহাসড়কের কাজের জন্য চলতি বছরে বিভিন্ন এলাকায় নানা সমস্যা দেখা দেয়। নতুন সেতু তৈরি না হওয়ায় চরতোর্ষা ডাইভারশন বার বার ভেঙে যাচ্ছে। মাটি ভরাট করায় রাস্তার পাশের নালাগুলি বন্ধ হওয়ায় বৃষ্টি হলেই সাহেবপোঁতায় রাস্তার উপর দিয়ে হাঁটু সমান জল বয়ে যায়। এসব কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। এবার পাইপ লাইন ভেঙে থাকায় জল না মেলায় বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও পিএইচই-র ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সড়কের পাশে নিউ পলাশবাড়ির একটি চিড়া ভাঙার মিলের সামনে প্রায় দু’মাস আগে মহাসড়কের কাজ করতে গিয়ে জলের মূল পাইপ ভেঙে যায়। পলাশবাড়ির দুটি পাম্প হাউসের মাধ্যমে সকাল, দুপুর ও বিকেলে এই এলাকায় জল পরিষেবা দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পাইপ ভেঙে থাকায় রোজ প্রচুর জলের অপচয় হচ্ছে। এদিকে বিভিন্ন এলাকার পিএইচই-র ট্যাপকলে জল পৌঁছাচ্ছে না। এজন্য বাসিন্দারা জল পাচ্ছেন না।

পশ্চিম কাঁঠালবাড়ির রতন বর্মন বলেন, এখনও ভাঙা পাইপ মেরামত করা হয়নি। বাধ্য হয়ে নলকূপের দূষিত জল খেতে হচ্ছে। পুঁটিমারি মোড় এলাকার মহানন্দ বিশ্বাস বলেন, বর্ষায় নলকূপের জলে দূষনের মাত্রা আরও বেড়েছে। এই দূষিত জল খেয়ে পেটের অসুখ হচ্ছে। মেজবিলের বাসিন্দা বীমাকর্মী তপন বর্মন বলেন, এই পরিস্থিতির জন্য জারের জল কিনে খেতে হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এক্ষেত্রে গ্রাম পঞ্চায়েতের কোনও হেলদোল নেই। তবে স্থানীয় পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সৌরভ পাল বলেন, দু’মাস থেকে জলের ভেঙে যাওয়া পাইপ সারাই করার দাবি বারবার পিএইচই-কে জানিয়েছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হেলদোল না থাকায় এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে।

এ প্রসঙ্গে মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থার আলিপুরদুয়ার জেলার প্রশাসনিক প্রধান মেহেবুব রহমান বলেন, জলের পাইপ লাইন মেরামতের বিষয়টি লিখিতভাবে পিএইচই-কে জানানো হয়েছে। পিএইচই-র আলিপুরদুয়ারের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত ধর বলেন, ওখানে এর আগে কিছু কাজ করা হয়েছে। কিন্তু এখন যে পাইপ ভেঙে রয়েছে, সেটা অফিসিয়ালি কেউ জানায়নি। তবে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত পাইপ মেরামত করার আশ্বাস দিয়েছেন।