ময়নাগুড়িতে বাস ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন

1927

জলপাইগুড়ি: ময়নাগুড়িতে বাস ডাকাতির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শুক্রবার জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তদের। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ধৃতদের নাম ও পরিচয় গোপন রেখেছে। তবে ধৃতরা সকলেই জলপাইগুড়ি জেলার বাসিন্দা বলে দাবি পুলিশের। ধৃতদের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং একটি কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়াও বাস যাত্রীদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, ডাকাত দলে মোট আটজন ছিল। শনিবার ধৃতদের আদালতে পেশ করা হবে।

গত সোমবার সন্ধ্যায় কোচবিহার থেকে করিমপুরগামী একটি বেসরকারি বাসে ডাকাতি করে আটজন দুষ্কৃতীর একটি দল। ডাকাতদলের কয়েকজন ধূপগুড়ি থেকে যাত্রী সেজে বাসে ওঠে। এরপর ধূপগুড়ি ওভারব্রিজের কাছ থেকে আরও দুজন ওই বাসে ওঠে। ওভারব্রিজ পার হওয়ার পরেই ডাকাত দলের একজন বাস চালকে মারধর করে ছিনিয়ে নেয় স্টিয়ারিং। বাকিরা চলন্ত বাসের ভেতরে লুঠপাট চালায়। ময়নাগুড়ি ঢোকার মুখে ডাকাত দলটি বাস থেকে নেমে পালিয়ে যায়। এরপর চালক বাসযাত্রীদের নিয়ে ময়নাগুড়ি থানায় আসেন। যাত্রী এবং বাসচালকের দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

- Advertisement -

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, সেদিন আটজনের একটি ডাকাতদল বাসে লুটপাট চালিয়েছিল। আটজনের মধ্যে ৪ জন জলপাইগুড়ি জেলার এবং ২ জন কোচবিহার জেলার বাসিন্দা। বাকি দুজনের বিস্তারিত এখনও পুলিশ জানতে পারেনি। শুক্রবার জেলার বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালিয়ে বাস ডাকাতির সঙ্গে যুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের এই ধরণের বড় ডাকাতি বা চুরির কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে ছোটখাট অপরাধের সঙ্গে তারা যুক্ত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছে জমা পড়া অভিযোগ অনুযায়ী, নগদ টাকা, সোনার গয়না এবং মোবাইল ফোন সহ ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা খোয়া গিয়েছে। ডাকাত দলের কাছে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। পুলিশ সুপার এদিন সাংবাদিক বৈঠকে জানান, বাকি পাঁচ দুষ্কৃতীর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার ধৃতদের আদালতে পেশ করা হবে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।