গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ হবিবপুরে, আটক তিন

105

হবিবপুর: অগ্নিদগ্ধ হয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার ভোরে হবিবপুর থানার আইহো গ্রাম পঞ্চায়েতের চাঁদপাড়া এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম অঞ্জনা দাস(২৮)। হবিবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। মৃতার স্বামী, ভাসুর এবং ভাসুরের স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই অঞ্জনাদেবীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার চালাতেন তাঁর স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। তাঁর স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন খুন করে গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আইহো চাঁদপাড়া এলাকার বাসিন্দা শঙ্কর দাস এবং তাঁর দাদা ভানু দাস এলাকায় মৃৎশিল্পী হিসেবে পরিচিত। একই বাড়িতে থাকলেও দাদা ভানু দাস তাঁর স্ত্রী ববিতাদেবীকে নিয়ে আলাদা থাকতেন। শঙ্কর দাস আলাদা থাকতেন স্ত্রী অঞ্জনাদেবীকে নিয়ে। অঞ্জনাদেবী শঙ্কর দাসের তৃতীয় পক্ষের স্ত্রী। বিয়ের পর প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় স্ত্রী চলে যান। দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সংসার স্থায়ী হয়নি। তারপরই বছর আটেক আগে হবিবপুরের শ্রীরামপুর এলাকার বাসিন্দা অঞ্জনাদেবীর সঙ্গে তৃতীয় বার সংসার শুরু করেছিলেন শঙ্কর। এদিন ভোরে তৃতীয় স্ত্রী অঞ্জনাদেবীর অগ্নিদগ্ধ দেহ বাড়ির বাথরুম থেকে উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

- Advertisement -

মৃতার দাদা নাড়ুগোপাল সিংহ বলেন, ‘তাঁর বোন তাঁদের কাছে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ করতেন। কিন্তু আজ সকালে খবর পান বোন নাকি আত্মহত্যা করেছে। অত্যাচারের পর খুন করে বাথরুমের ভেতর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বোনকে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।’ হবিবপুর থানার আইসি অমিতাভ সরকার বলেন, ‘অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূর দেহ উদ্ধার হয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজে পাঠানো প্রস্তুতি চলছে। গৃহবধূর স্বামী, ভাসুর এবং ভাসুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ৩ জনকেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।ֹ’