হলং পিলখানা মাতাচ্ছে রাজা, বীর ও পারমিতা 

235

নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট : সম্পর্ক রক্তের না হলেও তা যে কতটা জমজমাট হতে পারে তা দেখতে হলে একবার হলং সেন্ট্রাল পিলখানায় ঢুঁ মারা যেতে পারে। সেখানে দেখা মিলবে রাজা, বীর ও পারমিতার। বয়স দুই মাস থেকে বড়জোর মাস ছয়েক। এক বাবা-মায়ের সন্তান না হলেও হাতির এই ছানাগুলিকে দেখে তা বোঝে সেই সাধ্য কার! সর্বক্ষণ খুনশুটি, একে অন্যকে চোখে হারানো। অনাথ এই তিন হস্তীশাবকের মায়ে অভাব ভোলাতে তিনজন মাহুত নিজেদের সংসার ফেলে এই পিলখানাতেই এখন সর্বক্ষণের ঘাঁটি গেড়েছেন। হস্তীশাবকগুলির যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেজন্য বনাধিকারিক থেকে চিকিৎসকরা সেগুলিকে চোখে চোখে রাখছেন।

বন দপ্তর সূত্রে খবর, ১ সেপ্টেম্বর উত্তর রায়ডাক নদী থেকে রাজাকে উদ্ধার করা হয়। হাতির ছানাদের নামকরণের পিছনে ভৌগোলিক পরিবেশ ও সেগুলিকে উদ্ধারের সময় পরিস্থিতির প্রভাব থাকে। এই সূত্রেই শাবকগুলির নামকরণ করা হয়ে থাকে। এজন্য উত্তর রায়ডাক নদী থেকে উদ্ধার করা শাবকটির নাম রাজা রাখা হয়। একই সূত্রে বীরের মতো যুদ্ধ করে ২৩ সেপ্টেম্বর তোর্ষা নদী থেকে বেঁচে ফেরার জন্য ওই শাবকটি এখন বীর। শনিবার রাতে বক্সা ব্যাঘ্র-প্রকল্পের পোরো জঙ্গল থেকে একটি স্ত্রী  হাতিশাবককে উদ্ধার করা হয়। জঙ্গলের নামের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে তার নাম রাখা হয়েছে পারমিতা। শনিবার রাতে পোরো জঙ্গল থেকে অনাথ ওই হস্তীশাবকটিকে পিলখানায় আনার পর রীতি মেনে মঙ্গলকামনা করে মাহুত ও বনকর্মীরা পুজো দেন। তিন শাবকই আপাতত হলং সেন্ট্রাল পিলখানাকে মাতিয়ে রেখেছে।

- Advertisement -

সোমবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল তিনটি শাবক নিজেদের মধ্যে খুনশুটিতে মেতে রয়েছে। রাজার মাহুত নির্মল কুজুর জানালেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার সঙ্গে পারমিতার ভাব জমে উঠেছে। একজন অপরজনকে না দেখলে চিৎকার করে উঠছে। পারমিতার মাহুত সুভাষ খঁড়িয়া জানান, শাবকটিকে নিয়ে সবসময় ঘোরাতে হয়। রাজা ও বীরের সঙ্গে ওর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বনাধিকারিক কুমার বিমল বলেন, সদ্য উদ্ধার করা শাবকটির মায়ের দুধের অভাব শুকনো দুধ দিয়ে মেটাতে হচ্ছে। আমরা সারাক্ষণ শাবকগুলির ওপর নজর রাখছি।