স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের সদস্যকে মারধোরের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩ বিজেপি কর্মী

410

বর্ধমান, ২২ জানুয়ারিঃ স্বদেশী জাগরণ মঞ্চের এক সদস্যকে জখম করার অভিযোগে ৩ জন বিজেপি কর্মী গ্রেপ্তার হলেন। ধৃত সুরজিৎ মজুমদার, বিপ্লব বিশ্বাস ও কানাইলাল সরকার পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। আক্রান্তের দাদা বিপুল বিশ্বাসের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে, পুলিশ শুক্রবার রসুলপুর স্টেশন এলাকা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।

ধৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ এদিনই বর্ধমান আদালতে পেশ করে। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের ৭ দিন নিজেদের হেপাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী পুলিশ অফিসার।সিজেএম সুজিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ধৃতদের ৩ দিনের পুলিশি হেপাজত মঞ্জুর করেছেন। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে আক্রান্তের পরিবার।

- Advertisement -

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মিলন বিশ্বাসের বাড়ি মেমারি থানার জোতকানু এলাকায়।বৃহস্পতিবার বর্ধমানের জেলা বিজেপি পার্টি অফিসে হামলা ভাঙচুর চলার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ কাজ সেরে মিলন বর্ধমান থেকে রসুলপুর স্টেশনে নামেন। স্টেশন থেকে হেঁটে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন।

অভিযোগ, পথে বিজেপির কয়েকজন তাঁর পথ আটকায়। তাঁকে বেপরোয়া মারধর করা হয়। এরপর মিলনকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় মেমারির বিষ্ণুপুর এলাকার থাকা বিজেপির পার্টি অফিসের কাছে। সেখানে নিয়ে গিয়েও, মিলনকে লাঠি, রড দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মারধরে গুরুতর জখম হয়ে মিলন সংজ্ঞা হারান। তখন মারধোরে জড়িতরা তাঁকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়।

এলাকার বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় মিলনকে দেখতে পেন। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে মেমারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায়, রাতেই মিলনকে সেখান থেকে বর্ধমানের অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাঁকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। এই ঘটনার কথা জানিয়ে মিলনের দাদা বিপুল বিশ্বাস মেমারি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। জখম মিলনের দাদার দাবি, তাঁর ভাই স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের সদস্য। মিলনকে মারধোর করে যারা জখম করেছে, তারা সকলেই বিজেপির কর্মী।

মেমারির তৃণমূল যুব কংগ্রেসের নেতা সৌরভ সাঁতরা বলেন, বিজেপির নেতা-কর্মীরা এখন থেকেই প্রমান করে দিচ্ছেন তাঁরা কতটা হিংস্র দল। নিজেদের লোকজনও বিজেপি কর্মীদের আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। বিজেপিকে মাওবাদীদের থেকেও ভয়ংকর দল বলে চিহ্নিত করে তৃণমূল নেত্রী সঠিক কথাই বলেছেন। যতদিন যাবে, বাংলার মানুষ বিজেপির এমন হিংস্র আচরণ আরও দেখতে পাবেন বলে তৃণমূল যুব কংগ্রেস নেতা মন্তব্য করেছেন।