ইদে চুড়ি-মেহেন্দি না, ওদের হাতে স্যানিটাইজার-সিলিন্ডার

98

কল্লোল মজুমদার, মালদা : রাত পেরোলে উৎসবের দিন-ঘরে ঘরে নতুন পোশাক, হাতে কাচের চুড়ি আর মেহেন্দি, ভালো রান্নার সুবাস, মনে খুশিতে ভরপুর হয়ে থাকার কথা ওদের। কিন্তু সায়নী, আরমানি, শাহিনারা উৎসবকে ভুলে ছুটে চলেছে। কারও কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডার, কারও কাছে অক্সিমিটার, কারও কাছে বাজার, আবার কারও কাছে বা রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়াটাই ওদের কাছে খুশির ইদ। করোনা পরিস্থিতিতে মালদার এই মেয়েরাই হয়ে উঠেছে মানবিকতার এক নতুন সংজ্ঞা। জোরগলায় ওঁরা একটা কথাই বলছে, উৎসবের থেকে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই একমাত্র কাজ, আর সেটাই আমাদের ইদ পালন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জুট টেকনোলজির তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সায়নী পারভিন রেড ভলান্টিয়ার্সের সক্রিয় সদস্য। বাজার থেকে আরম্ভ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী করোনা আক্রান্তদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সবসময় তৈরি ওঁরা। ওঁরা কেউ থাকেন মালদা শহরে, কেউ সুজাপুরে। ওঁরা জোর গলায় বলে, এই দলে যখন যুক্ত হয়েছিলাম, তখন থেকেই মানবসেবাকেই সবার ওপরে ভাবতে শিখেছি। আমাদের কাছে উৎসব বড় নয়, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই প্রধান।

- Advertisement -

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এডুকেশনে এমএ, বিএড করে নেটের প্রস্তুতি নিচ্ছে আরমানি খাতুন। বন্ধু তামান্না, বনশ্রী, রবিউলকে নিয়ে সে আগেই তৈরি করেছে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিবর্তন। শুধু কোভিড নয়, যে-কোনও পরিস্থিতিতে আর্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপারে সে অনেক আগে থেকেই উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, ফোন পেলেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করছি। উৎসব নয়, মানবিকতাই বড়।

পশ্চিমবঙ্গে রেড ভলান্টিয়ার্সের সংখ্যা ৮০ হাজার পেরিয়েছে, এই সাহসী কন্যাদের অনেকেই এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছেন। তবে এর মধ্যেও আছেন শাহিনা আখতারের মতো এক মেয়ে যে স্বপ্নের পথিক নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অসহায় মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে তৎপর। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শাহিনা এই কাজের সঙ্গে আগে থেকেই যুক্ত। সে বলে, শুধু কোভিড পরিস্থিতি নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবসময় তৈরি থাকতে হবে। এখনও আমাদের সংস্থাটিকে রেজিস্টার্ড করতে পারিনি। আশা করছি, এই কাজটা হলে আগামীতে আরও বেশি করে মানবসেবায় এগিয়ে আসতে পারব। এভাবেই বিপন্ন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোতেই সার্থকতা খুঁজছে এই সাহসিনীরা। সংস্কার তাঁদের কাছে কুসংস্কার নয়, নিয়ম তাঁদের পায়ে শিকল পরিয়ে রাখতে পারছে না, ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় তাঁদের সামনে কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না। উৎসব আর মানবসেবা তাদের কাছে আজ এক সমার্থক শব্দ।