খেলাই আসল ভ্যালেন্টাইন শিলিগুড়ির ক্রীড়া দম্পতিদের কাছে

104

শুভময় সান্যাল, শিলিগুড়ি : প্রেম তোলা থাক সিন্দুকে। ভালোবাসার উদযাপনে আবার আলাদা দিন লাগে নাকি? ঠিক এই দলে পড়েন না উত্তরবঙ্গের তিন খেলোয়াড় দম্পতি।ভ্যালেনটাইন্স ডে-র আগের দিন খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সংসারের চৌকাঠে লম্বা ইনিংসের দিকে এগিয়ে যাওয়া শুভজিৎ সাহা-নন্দিতা সাহা, মান্তু ঘোষ-সুব্রত রায়, রানা রায়-জ্যোৎস্না রায়প্রধানরা এখন দায়িত্বশীল বাবা-মায়ের ভূমিকায়। বিস্তর ছাত্রছাত্রীও রয়েছে তাঁদের। তিন ক্রীড়াদম্পতির প্রথম জুটির জন্ম শিলিগুড়িতে হলেও বর্তমানে কলকাতার বাসিন্দা। মান্তু-সুব্রতরা শিলিগুড়িতেই থাকেন। জ্যোৎস্না-রানার ঠিকানা ময়নাগুড়ি। খেলাকে ভ্যালেনটাইন বানিয়ে ঘরকরার ফাঁকে তিন ক্রীড়াদম্পতিরই প্রেমদিবসে মেতে ওঠার সুযোগ বড়ই কম। তবুও মনে ঢেউ তুলে যায় ১৪ ফেব্রুয়ারি। ইচ্ছা করে প্রিয়জনের হাতে একটা গোলাপ তুলে দিয়ে মনের কথা জানাতে।

বিরিয়ানির প্রস্তুতি
কমনওয়েলথ গেমসে টেবিল টেনিস ডাবলসে সোনাজয়ী শুভজিৎ আর তাঁর ঘরণি নন্দিতার ভ্যালেনটাইন্স ডে চলে বছরের ৩৬৫ দিনই। তবু দিনটার উদযাপনে আলাদা করে প্রোগাম তোলা থাকে প্রতি বছরই। শুভজিৎ বলেছেন, ছোটবেলা থেকেই দিনটার কথা শুনছি। আমার কাছে কিন্তু প্রতিটা দিনই ভালোবাসার। কিন্তু ১৪ ফেব্রুয়ারির গুরুত্ব অস্বীকার করতে পারি না। মেয়ে এখনও ছোট। নিজের কোচিং আছে। তারপরও সময় বের করে আগামীকাল নন্দিতাকে নিয়ে বাইরে কোথাও ডিনারে যাব। ওর জন্য কিছু সারপ্রাইজও থাকবে আমার তরফে। পারফেক্ট মিক্সড ডাবলস পার্টনারের মতোই শুভজিতের ছেড়ে দেওয়া বল ধরে নন্দিতার রিটার্ন, বরাবরই ও নিজের দায়িত্বের প্রতি সৎ থেকেছে। সম্পর্কের শুরুর দিকের অনুভূতিটা এদিন ফিরে পাই। এবারও কিছু পরিকল্পনা নিশ্চয় আছে ওর। তবে আমিও তৈরি। জানি বিরিয়ানি শুভজিতের কতটা ফেভারিট। সেটাই রান্না করে চমকে দেব ঠিক করে রেখেছি। ভ্যালেনটাইন্স ডে তো শুধু হইহই উদযাপন নয়, কিছু নস্টালজিয়াও তৈরি করে। নন্দিতার মনেও তার ছায়া। শুনিয়েছেন পুরোনো সেই দিনের কথা, সালটা বোধহয় ২০০৩। চিনে একটি টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়েছি আমরা ভারতীয় দলের সঙ্গে। ওখানে তখন গোলাপের দাম শুনেই কাঁটা লাগে হাতে। তবু একটি গোলাপ লুকিয়ে চুরিয়ে এনে আমার হাতে তুলে দিয়েছিল শুভজিৎ। গল্পটা আজও ওঠে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর আড্ডায়।

- Advertisement -

তিনদিন আগেই তো…
বিয়ে ১৭ বছর পরও মান্তু-সুব্রতর সম্পর্কটা দাঁড়িয়ে ডাবলস জুটির মতো বোঝাপড়ায়। মান্তু বলছেন, এখন আমরা বেঙ্গল স্টেট টেবিল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা। সিনিয়ার ন্যাশনালের জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি দল রওনা হবে। হাতে থাকা দিন দুটো ছাত্রছাত্রীদের তৈরি করতেই কেটে যাবে। তাই এবার হয়তো আলাদা কিছু করা যাবে না। এজন্য কেউ মনখারাপ করব না। একই সুর সুব্রতর কথাতেও। ১১ ফেব্রুয়ারি বিবাহবার্ষিকী গেল। সেদিনও ছাত্রছাত্রীদের দু’বেলা অনুশীলন করিয়েছি। আসলে দায়িত্বপালনে কখন কী ছাড়তে হয়, সেটা আমরা জানি।

উপহারে ট্র‌্যাকশুট
এশিয়ান ট্র‌্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে রিলে রেসে জোড়া পদক জয়ী জ্যোৎস্না রায়প্রধান আর তাঁর অ্যাথলেটিক্স কোচ স্বামী রানা রায়ের সম্পর্ক অন্য তারে বাঁধা। জেন ওয়াইয়ের প্রতিনিধি না হয়ে ভ্যালেনটাইন্স ডে-কে আঁকড়ে ধরতে দ্বিধা নেই দুজনের। রানা বলেছেন, বিয়ের প্রথম কয়েকটা বছর জ্যোাৎস্না থাকত কলকাতায়। আমি পড়ে ময়নাগুড়িতে। বর্তমান প্রজন্মের মতো না পারলেও দিনটা কখনও ভুলে যাইনি আমরা। এবার তো বিয়ের নেমতন্ন আছে সেদিন। নিশ্চয় সাজগোজ করবে জ্যোৎস্না। একটা গোলাপ উপহার দেব ওকে। রানার প্রয়োজন বুঝে উপহার আগেই বেছে রেখেছেন জ্যোৎস্না। বলেছেন, প্রতিদিন মাঠে যায় ছাত্রছাত্রীদের অনুশীলন করাতে। একটা ট্র‌্যাকশুট পেলে ওর ভালোই হয়। ভালোবাসার দিনে সেটাই হবে আমার উপহার। সম্পর্কের উষ্ণতা থাকবে, আবার প্রয়োজনও মিটবে।
তিন ক্রীড়া দম্পতির কথা থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার। খেলাই তাঁদের ভ্যালেনটাইন।