বৈরাগীদিঘিতে জঙ্গলে ঢাকা পড়ছে তিন কোটির ফোয়ারা

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : প্রশাসনিক উদাসীনতায় জঙ্গলে ঢাকা পড়ছে তিন কোটি টাকার অত্যাধুনিক ফোয়ারা। কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন ঠাকুরবাড়ির সামনে বৈরাগীদিঘিতে ওই ফোয়ারা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ফোয়ারাটি চালানো হয় না। সামান্য বাতাসে ফোয়ারাটি দিঘিটির বিভিন্ন দিকে ঘুরে যাচ্ছে। পরিচর্যার অভাবে ইতিমধ্যে ফোয়ারাটির একটা বড় অংশ জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। তিন কোটি টাকার অত্যাধুনিক ফোয়ারাটির এমন বেহাল দশায় কোচবিহারের মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছেন।

পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন ঠাকুরবাড়ির বৈরাগীদিঘিতে অত্যাধুনিক মিউজিক্যাল ফোয়ারা তৈরি করেছিল জেলা প্রশাসন। ফোয়ারাটি তৈরি করতে তিন কোটির বেশি টাকা খরচ হয়েছিল। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর ও পর্যটন দপ্তরের তরফে ওই টাকা দেওয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালের ৩ নভেম্বর রাস উৎসব শুরুর দিন ঘটা করে ঢাকঢোল পিটিয়ে ফোয়ারাটি যৌথভাবে উদ্বোধন করেছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। কিন্তু উদ্বোধন হওয়ার পর প্রায় তিনবছর পার হতে চললেও তিনমাসও ফোয়ারাটি চলেনি। কোচবিহারের অতিরিক্ত জেলা শাসক লক্ষ্মী তান্নিরু বলেন, ফোয়ারাটি কীভাবে চালানো যায় তা আমরা ভেবে দেখছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের দুই আধিকারিক জানিয়েছেন, ইচ্ছা থাকলেও ফোয়ারাটি চালানো সম্ভব নয়। কারণ ফোয়ারাটি চালাতে গেলে প্রতিদিন যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন, তাঁদের কাছে অত টাকা নেই। টিকিট বিক্রি করে যে সামান্য টাকা ওঠে, তা দিয়ে ফোয়ারাটি চালানোর খরচ ওঠে না।

- Advertisement -

এত টাকা খরচ করে ফোয়ারাটি তৈরির পরেও তা না চালাতে পারায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, কোচবিহারের রাজবাড়ি পার্ক, সুকান্ত মঞ্চ সহ বহু জায়গার সংস্কার প্রয়োজন। কিন্তু সেসব সংস্কারে টাকা খরচ না করে জেলা প্রশাসন কেন এত কোটি টাকা খরচ করে কোনও পরিকল্পনা ছাড়া এই ফোয়ারা তৈরি করল, যেটা তাদের পক্ষে চালানোই সম্ভব নয়। পাশাপাশি, প্রশ্ন উঠেছে, এ ধরনের প্রকল্পে রাজ্য সরকারই বা কেন এত কোটি টাকা খরচ করল? এছাড়া, ফোয়ারাটি বসানোর জন্য বৈরাগীদিঘিটির দুই ধারও নেট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দিঘির পাড়ও জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। ফলে মানুষ দিঘির পাড়ে বসার জায়গায় বসতে পারছেন না। সবমিলিয়ে ফোয়ারা নিয়ে কোচবিহারে মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।