কন্যার মৃতদেহ নিজেরাই কবর দিয়ে কোয়ারান্টাইনে গেলেন বাবা-মা সহ ৩

572

পুণ্ডিবাড়ি, ৩ মেঃ ভিনরাজ্য থেকে শিশুকন্যার মৃতদেহ নিয়ে বাড়িতে ফেরায়, সামাজিক বাঁধার জেরে বাবা ও মা সহ আরেকজন পরিবারের সদস্য মেয়ের কবর দিয়ে কোয়ারান্টাইন সেন্টারে গেলেন। কোচবিহার-২ ব্লকের মরিচবাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত শিশুর পিতা মহম্মদ অহিরুদ্দিন মিয়াঁ জানান, তাঁর ২ বছরের শিশু কন্যা মরিয়ম পারভিন বছরখানেক ধরে অসুস্থ ছিল। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে উন্নত চিকিৎসার জন্য, তাকে ব্যাঙ্গালোরে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রথমে সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখালে, শিশুর লিভারে সংক্রমণ হয়েছে বলে জানান। কিছুদিন সেখানে চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে, অপরএকটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানকার ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানায়, সংক্রমণের ওই শিশুর গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ এপ্রিল থেকে সেই হাসপাতালের আইসিইউতে তার চিকিৎসা চলে। ২৯ এপ্রিল তাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। এরপর ৩০ এপ্রিল মৃত্যু হয়। সেদিনই ওই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার পর, ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে বাড়ির উদ্দেশ্যে তাঁরা রওনা হন। শনিবার রাতে ফালাকাটা পুলিশ ২ ঘণ্টা তাঁদের আটক করে রাখে। সমস্ত নথিপত্র দেখে, পুলিশ পুণ্ডিবাড়ি থানায় হস্তান্তর করে। পুণ্ডিবাড়ীতে মধ্যরাতে পৌঁছে ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থার্মাল স্ক্রিনিং করার পর রবিবার ভোরে মরিচবাড়িতে ফেরেন। প্রথমে স্থানীয়রা তাঁদের গ্রামে ঢুকতে বাঁধা দেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন গ্রামবাসীর সঙ্গে বচসাও বাঁধে। শিশুকন্যার করোনা সংক্রমণের জেরে মৃত্যু হয়েছে বলে গোটা মরিচবাড়ি এলাকা জুড়ে গুজব ছড়িয়ে যায়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর তিনি নিজেই কন্যার মৃতদেহ কবর দেন বলে অহিরুদ্দিন মিয়াঁ জানিয়েছেন।

- Advertisement -

কন্যাশিশুকে হারিয়ে অহিরুদ্দীন বাবুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী রশিদা বানু শোকে ভেঙে পড়েছেন। মেয়ের সৎকার নিয়ে এভাবে সমাজ বয়কট করায়, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না ওই দম্পতি সহ শিশুর পরিবার। এদিন সকালে শিশুর কবর দিয়েই পুলিশের নির্দেশ মেনে অহিরুদ্দীন মিয়াঁ, তাঁর স্ত্রী ও মা সহ ৩ জন পাতলাখাওয়াতে কোয়ারান্টাইন সেন্টারে গেলেন। আপাতত তাঁরা সরকারি নির্দেশ মেনে ১৪ দিন সেখানেই থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। এবিষয়ে পুণ্ডিবাড়ি থানার ওসি মহিম অধিকারী জানান, খবর পেয়ে বাড়ির পাশেই শিশুর কবর দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি, ভিনরাজ্য ফেরত ৩ জনকে কোয়ারান্টাইনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।