করোনা আতঙ্ক, প্রশাসনের নির্দেশে পূর্ব বর্ধমান ছাড়তে হল ইতালির তিন মহিলাকে

388

বর্ধমান ১২ মার্চঃ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক। ইতিমধ্যেই ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪ ছুঁয়েছে। এমন আতঙ্কজনক পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার তিন ইতালিয় মহিলাকে ঘিরে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম ও ভাতারবাসী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সেই খবর পেয়েই নড়েচড়ে বসেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস  পরে প্রশাসনের কর্তারা দ্রুত পৌঁছে যান ইতিলি থেকে আসা ওই মহিলাদের কাছে। তাদের পাসপোর্ট, ভিসা এবং করোনা আক্রান্ত না হওয়া সংক্রান্ত ডাক্তারি ছাড়পত্র দেখার পরেও প্রশাসনিক কর্তারা কোন ঝুঁকি নিতে চান নি।  প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশে  স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অনুষ্ঠান না করেই ইতালি থেকে আসা তিন মহিলাকে শেষপর্যন্ত  রাঁচি ফিরে যেতে হয়।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,ইতালি থেকে আসা তিন মহিলা এদিন সকালে প্রথম আউশগ্রামের কয়রাপুরের কাছে একপাড়ে ডাঙা গ্রামের একটি অনাথ আশ্রমে যান। সেখান থেকে তারা পৌঁছেযান গুসকরা স্কুল মোড়ের জনজাতি মহিলাদের কাছে। এখানে স্বল্পমূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির একটি যন্ত্রের উদ্ধোধন করেন ইতালি থেকে আসা তিন মহিলা। এই অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত থাকা পুলিশ আধিকারিকরা আয়োজক সংস্থার কাছে তিন বিদেশী মহিলার সম্পর্কে বিশদে খোঁজ খবর নেন। সংস্থার লোকজন পুলিশকে জানান, ২৭ ফেব্রুয়ারি  রাত ২ টো নাগাদ তিন বিদেশী মহিলা দমদম বিমান বন্দরে নামেন। সেখানে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়। কিন্তু  করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হবার কোন লক্ষণ ধরা না পরায় তিন বিদেশী মহিলাকে বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দমদম  বিমানবন্দর থেকে তিন মহিলা সোজা চলে যান দুমকা। গত বুধবার বর্ধমানে একটি চার্চে এসে ওঠেন ওই তিনজন। এই সবকিছু জানিয়েদেবার পর  গুসকরায় তিন বিদেশীনিকে আর পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয়নি। গুসকরার অনুষ্ঠান সেরে তিন বিদেশীনি বৃহস্পতিবার দুপুরে যান ভাতারের জামবুনি গ্রামে। সেখানে স্বেচ্ছাসেবী   সংস্থা আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিন তারা যোগ দিতে গেলে পুলিশ তাদের আটকে দেন। সেই খবর পেয়ে জামবনি গ্রমের অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছে যান ভাতারের বিডিও শুভ্র চট্টোপাধ্যায় ও ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সংঘমিত্রা ভৌমিক। তিন বিদেশীনির একপ্রস্থ স্বাস্থ পরীক্ষা হয়। তাদের পাসপোর্ট, ভিসা সহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ছাড়পত্রও প্রশাসনিক কর্তারা খতিয়ে দেখেন। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও ঝুঁকি না নিয়ে বিডিও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ইতালির তিন মহিলাকে রাঁচি পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ আধিকারিক প্রণব রায় জানিয়েছেন, বিদেশ থেকে যারাই জেলায় ফিরছেন তাঁদের উপর নজরদারি  চালানো হচ্ছে। ইতালির তিন মহিলার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। কিন্তে করোনা আক্রান্ত হবার কোন লক্ষণ মেলেনি। অযথা আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। উনারা রাঁচি ফিরে গেছেন। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য শর্মিষ্ঠা সিংহরায় বলেন, ‘করোনা ভাইরাস নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সেই আতঙ্কের কারণেই ইতালি থেকে আসা তিন মহিলাকে বিড়ম্বনায় পড়তে হল’।