দুষ্কৃতী হামলায় আক্রান্ত এক পরিবারের তিন

117

গাজোল: মোটর সাইকেলে করে গাজোল থেকে মোথাবাড়ি যাওয়ার পথে ইংলিশ বাজারের বাঁধাপুকুর এলাকার ভাগাড়ের কাছে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হলেন এক পরিবারের তিনজন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধোর করার পর তাদের কাছ থেকে মোবাইল সহ সমস্ত কিছু ছিনিয়ে নেয় চারজন জন দুষ্কৃতী। এরপর সেখান থেকে আহত এবং রক্তাক্ত অবস্থায় কোনওরকমে এলাকায় ফিরে আসেন তাঁরা। রাতেই চিকিৎসা করান হাতিমারি হাসপাতালে। ঘটনার জেরে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকেই আঁটোসাঁটো করা হয়েছে নিরাপত্তা। পুলিশের টহলদারির পাশাপাশি রুটমার্চ করছে আধাসামরিক বাহিনী। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় এভাবে দুষ্কৃতী হানার জেরে নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনায় আহত হয়েছেন গোপাল মন্ডল (২৮), গোবিন্দ মন্ডল (৩৮) এবং তার স্ত্রী রেখা মন্ডল (৩২)। এঁদের বাড়ির গাজলের পাণ্ডুয়া অঞ্চলের বাবুপুর গ্রামে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ইংলিশবাজার থানার পক্ষ থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

- Advertisement -

ঘটনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে গোপাল মন্ডল জানালেন গতকাল সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ আলমপুর থেকে এক আত্মীয়ের  শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁরা মোথাবাড়ি যাচ্ছিলেন। বাইপাস ধরেই মোটর সাইকেলে করে যাচ্ছিলেন তাঁরা। বাধা পুকুরের কিছু আগে ভাগাড়ের কাছে একটি মোটরসাইকেলে করে চার জন দুষ্কৃতী প্রথমে তাদের গালিগালাজ করে। কিন্তু তিনি তাদের কথায় কান না দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। সেইসময় মোটরবাইকের হাতলে ধাক্কা মারে দুষ্কৃতীরা। নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য তিনি দাঁড়িয়ে পড়েন। সেইসময় ওই দুষ্কৃতীরা হঠাৎ করেই তাদের উপর আক্রমণ চালায়। তার দাদার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। তবে তার মাথায় হেলমেট থাকার জন্য মাথায় আঘাত না লাগলেও শরীরের অন্যান্য স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তার বৌদির কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। যার ফলে দুটি কানের লতি কাটা গিয়েছে।

এছাড়াও তাদের মোবাইল এবং টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মিনিট খানেকের মধ্যেই সমস্ত কিছু ছিনিয়ে নিয়ে মোটর সাইকেলে করে দুষ্কৃতীরা সাদুল্লাপুরের দিকে পালিয়ে যায়। এরপরই গুরুতর আহত এবং রক্তাক্ত অবস্থায় কোনরকমে তাঁরা এলাকায় ফিরে আসেন। হাতিমারি গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা করান।

এদিন ইংলিশবাজার থানার পক্ষ থেকে তাদের কাছে ফোন করে সমস্ত ঘটনার বিবরণ নেওয়া হয়েছে। তবে তার দাদার মাথার যন্ত্রণা শুরু হওয়ায় এদিন আবার চিকিৎসকের কাছে যাবেন তাঁরা। তারপর লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন। ঘটনার জেরে তীব্র আতঙ্কে ভুগছেন তাঁরা।

তবে এই ঘটনার জেরে সন্ধ্যারাতে জাতীয় সড়কের মতো জায়গায় নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের কারণে এমনিতেই বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। তার সাথে বিভিন্ন এলাকায় চলছে আধা-সামরিক বাহিনীর রুট মার্চ। তারমধ্যেই এই ধরনের দুঃসাহসিক দুষ্কৃতী হানার জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।