সপ্তাহের ব্যবধানে করোনায় মৃত স্বামী সহ শ্বশুর-শাশুড়ি, দিশেহারা গৃহবধূ

211

রায়গঞ্জ: এক সপ্তাহের ব্যবধানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল স্বামী সহ শ্বশুর-শাশুড়ির। এমতবস্থায় একমাত্র মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রায়গঞ্জ পুর এলাকার বাসিন্দা এক গৃহবধূ ঝুমা ঘোষ। আগামীদিন কীভাবে চলবে তা ভেবেই আঁতকে উঠছেন শোকগ্রস্থ ওই গৃহবধূ। সেক্ষেত্রে সংসার চালাতে স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে কাজের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে কোভিড পরিস্থিতিতে সকলকে সচেতন থাকার কথাও জানিয়েছেন।

পরিবার সূত্রে খবর, গত মঙ্গলবার করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ঝুমাদেবীর স্বামী সুব্রত ঘোষের। তার দু’দিনের মাথায় মৃত্যু হয় ঝুমাদেবীর শ্বশুর বিমল ঘোষ ওরফে মণ্টুবাবুর। সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে বিশেষ পরিচিতি ছিল তাঁর। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঝুমাদেবীর শাশুড়ির মৃত্যু হয় রবিবার। সকলেই করোনা আক্রান্ত ছিলেন বলেই খবর।

- Advertisement -

ঝুমাদেবীর স্বামী সুব্রত ঘোষ পেশায় স্ট্যাম্প ভেন্ডার ছিলেন। একমাত্র উপার্যক ছিলেন তিনিই। এছাড়াও ঝুমাদেবীর শ্বশুর-শাশুড়ির পেনশনের টাকাও সংসার খরচে ব্যয় হত। এমতবস্থায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ঝুমাদেবী। তিনি বলেন, ‘স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি তিনজনই করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই কিডনির অসুখে ভুগছিলেন স্বামী অন্যদিকে শ্বশুড়-শাশুড়ির হার্টের সমস্যা ছিল। অনেকদিন থেকে ওনারা চিকিৎসাধীন ছিলেন। আমি এবং মেয়ে সুস্থ আছি।’ তিনি আরও বলেন, এখন উপার্যন শূণ্য। কোনওমতে জমানো টাকায় সংসার চলছে। স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে কাজের জন্য আবেদন জানিয়েছি।’

রায়গঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস বলেন, ‘সত্যিই মর্মান্তিক ঘটনা। ওই পরিবারের পাশে আছি। স্থানীয় কাউন্সিলার প্রসেঞ্জিৎ সরকার সব সময় খোঁজ খবর রাখছেন।’