দেওয়াল চাপা পড়ে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু

600

বর্ধমান: ভগ্নপ্রায় মাটির দোতলা বাড়িতে বসবাস করত গোটা পরিবার। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আরও দুর্বল হয়ে পড়েছিল সেই মাটির বাড়ি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পরিবার সদস্যরা যখন ওই মাটির বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন তখনই আচমকা বাড়ির একাংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ভেঙে পড়া বাড়ির দেওয়ালের নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু হল পরিবারের তিন সদস্যের। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের গোবর্ধনপুর গ্রামে।প্রতিবেশী ও পরিজনরা রাতভর ধ্বংসস্তুপ সরিয়ে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করেন। মঙ্গলকোট থানার পুলিশ এই মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতরা হলেন টগরা বিবি (৬৫), বুড়ি বিবি (৪৫) ও সফিউন্নেসা খাতুন (১২)। বুড়ি বিবি সম্পর্কে টগরা বিবির মেয়ে। অপর মৃত সফিউন্নেসা সম্পর্কে টগরার নাতনি। এই মৃত্যুর খবর পেয়ে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ শুক্রবার সকালে গোবর্ধনপুর গ্রামের পশ্চিম মুসলিমপাড়ায় পৌঁছায়।ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ মৃতদেহগুলি উদ্ধার করতে পুলিশকে গ্রামবাসীদের প্রবল বাধার মুখে পড়তে হয়। তা নিয়ে উত্তেজনা চরমে উঠে। মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করতে না দিয়েই আত্মীয়-পরিজন ও পাড়ার একাংশ এদিন গ্রামেই মৃতদেহ সৎকার করে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃতদেহ উদ্ধারে যাওয়া পুলিশকর্মীদের গ্রামবাসীরা এমন ঔদ্ধত্য কিভাবে দেখাতে পারে তা নিয়েও নানা মহল প্রশ্ন তুলেছে।

- Advertisement -

এলাকার বাসিন্দাদের কথায় জানা গিয়েছে, টগরা বিবির পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল। ভগ্নপ্রায় একটি মাটির দোতলা বাড়িতেই পরিবারের সবাই মিলে বসবাস করতেন। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে তাঁদের মাটির বাড়ির দেওয়াল আরও দুর্বল হয়ে যায়। বিকল্প বাসস্থান না থাকায় বাধ্য হয়ে সেই বাড়িতেই তাঁরা থাকছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে টগরা বিবি তাঁর মেয়ে ও নাতনিকে নিয়ে দোতলা মাটির বাড়ির নীচের তলার বারান্দা লাগোয়া একটি ঘরে শুয়ে পড়েন। গভীর রাতে বৃষ্টি শুরু হয়। তখনই দোতলার বারান্দা সহ একটি ঘরের দেওয়াল আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ঘুমন্ত অবস্থায় ভেঙেপড়া সেই দেওয়ালের নীচে চাপা পড়ে যান টগরা বিবি এবং তাঁর মেয়ে ও নাতনি। ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়ে তিনজনেরই মৃত্যু হয়। বরাত জোরে প্রাণে বেঁচে যান পরিবারের বাকি সদস্যরা। প্রতিবেশী ও পরিজনরাই সারা রাত ধরে ধ্বংসস্তুপ সরিয়ে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ধসে পড়া মাটির দোতলা বাড়ির দেওয়ালের নীচে চাপা পড়ে ওই গ্রামে একই পরিবারের তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।