ব্লকে এই প্রথম একদিনে আক্রান্ত ৩, আক্রান্তদের ২ জনেই কাজল ঘোষের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন

334

ফাঁসিদেওয়া, ১১ জুলাইঃ এই প্রথম ফাঁসিদেওয়া ব্লকে একদিনে মোট ৩ জন করোনা আক্রান্ত হলেন। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অধ্যক্ষ তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কাজল ঘোষ করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর এই সংক্রমণের খবর সামনে আসতেই বিধাননগর সহ গোটা ব্লকে ব্যপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, আক্রান্ত বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রের এক পুলিশ কর্মী এবং বিধাননগরের স্থানীয় ব্যবসায়ী গত ৫ তারিখ কাজল ঘোষের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। পুলিশ কর্মী গত ৯ তারিখ বুধবার উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে লালারস পরীক্ষার জন্য দিয়েছিলেন। পাশাপাশি, ব্যবসায়ী এবং বটলিফ চা বাগানের মালিক মোট ৩ জন চোপড়ায় লালারস পরীক্ষার জন্য দিয়েছিলেন। শনিবার উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে পুলিশ কর্মীরা এবং রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে ব্যবসায়ী সহ বাকি ২ জনের লালারস পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস নেতার সংক্রমণ ধরা পড়তেই তাঁরা ২ জনই হোম কোয়ারান্টিনে ছিলেন। অন্যদিকে, অপর আক্রান্ত কোনও ভাবেই বিগত কয়েকদিনে কাজল ঘোষের সংস্পর্শে আসেননি। কিভাবে তিনি সংক্রমিত হলেন, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে, জানা গিয়েছে, কাজল ঘোষের সংস্পর্শে আসা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যবসায়ীর সঙ্গে ওই ব্যক্তি এবং অরেক আক্রান্ত একসঙ্গে চোপড়ায় লালারস পরীক্ষার জন্য গিয়েছিলেন। ওই সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ এলাকার ৪টি ব্লকের বিডিও, ৪টি ব্লকের বিএমওএইচ সহ উত্তর দিনাজপুর জেলা ও দার্জিলিং জেলা পুলিশের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার সহ দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, কাজল ঘোষের সংস্পর্শে আসার পর বিধাননগরে সংক্রমণ যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, সম্বর্ধনা সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা কতটা সুরক্ষিত তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর এদিনের আক্রান্তরা সকলেই উপসর্গহীন। সেই কারণেই উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁদের নিজেদের ঘরে কোয়ারান্টিন থাকতে বলা হয়েছে। তবে, রাত প্রায় ১০টা নাগাদ ব্যবসায়ী এবং অরেক আক্রান্তকে কাওয়াখালির কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতাল কর্তপক্ষ। বিধাননগরের বটলিফ চা বাগানের মালিকের কোভিড হাসপাতালে যাওয়ার কথা না থাকলেও, গ্রামবাসীদের চাপে তিনিও হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তবে, ভাইরাস আক্রান্ত পুলিশ কর্মী আপাতত নিজ দায়িত্বে কোয়ার্টারে সেলফ কোয়ারান্টিনে থাকবেন। স্বাস্থ্য কর্মীরা তাঁর ওপর নজর রাখবেন। এদিকে, ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক আধিকারিক হোম কোয়ারান্টিন রয়েছেন। বিধাননগর ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সলিল সিংহ করোনা আক্রান্ত ব্যবসায়ীর সংস্পর্শে এসেছিলেন। সেই কারণে, এদিন রাতে তিনিও হোম কোয়ারান্টিনে গেলেন। ব্লকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় মহলে বেশ উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফাঁসিদেওয়ার বিএমওএইচ অরুণাভ দাস জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।