কোষাগার শূন্য, ঠুঁটো জগন্নাথ তিন পুরসভা

196

কোচবিহার :  আর্থিক সংকটে ভুগছে কোচবিহারের তিন পুরসভা। ফান্ড না থাকায় একপ্রকার ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে কোচবিহার, মাথাভাঙ্গা এবং তুফানগঞ্জ পুরসভা। অর্থের অভাবে উন্নয়নমূলক কোনও কাজ হচ্ছে না। এমনকি ফান্ড না থাকায় কর্মীদের বেতন, পেনশন দেওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কোথাও অবশ্য পুরসভার নিজস্ব তহবিল ভেঙে কিছু জরুরি কাজ করা হচ্ছে। অবিলম্বে অর্থের জোগান না হলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিজেদের অসহায়তার কথা স্বীকার করে নিয়েছে পুর কর্তপক্ষ।

তুফানগঞ্জ পুরসভা এলাকায় একটি জলের রিজার্ভার তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে। ওই রিজার্ভার থেকে শহরের বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছানোর কথা। কিন্তু সেখানে আয়রন প্ল্যান্ট বসানো, পাইপ লাগানো সহ অন্যান্য কাজ আটকে রয়েছে। এর পাশাপাশি শহরে রাস্তাঘাট, নর্দমা সহ অন্যান্য নতুন কোনও কাজও দীর্ঘদিন ধরে হচ্ছে না। চলতি বছর সাতমাস পেরিয়ে গেলেও পুরসভা কোনও ফান্ড পায়নি। তাই জরুরি কাজ নিজস্ব তহবিল ভেঙেই চলছে। অন্যদিকে, মাথাভাঙ্গা পুরসভা এলাকায় প্রায় ১২ কোটি টাকার রাস্তার টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে রয়েছে। কিন্তু লকডাউনের জন্য কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে এখানেও আর্থিক সমস্যা রয়েছে। পুরসভার আয় বন্ধ থাকায় ও রাজ্য থেকে নতুন করে ফান্ড না আসায় অস্থাযী কর্মীদের বেতন ও পেনশন দেওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এদিকে কোচবিহার পুরসভা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ডের ভিতরের ছোট রাস্তা, নর্দমা, পথবাতি লাগানো সহ অন্যান্য উন্নয়নের কাজ বন্ধ রয়েছে। আর ফান্ডের অভাবেই কাজ বন্ধ রয়েছে বলে মানছেন পুরকর্তারা। বর্ষায় সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাজ না হওয়ায় পুর নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তুফানগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান অনন্ত বর্মা বলেন, আমাদের হাতে ফান্ড নেই। তাই নতুন কোনও কাজ করা যাচ্ছে না। খুবই সমস্যা দেখা দিয়েছে। পুরসভার নিজস্ব ফান্ড ভেঙে বর্ষায় কিছু নর্দমা সংস্কার, সারাইয়ের কাজ, ডেঙ্গি রোধে কামান দাগা প্রভৃতি করা হচ্ছে। চলতি বছর রাজ্য থেকে কোনও ফান্ড তাঁরা পাননি বলে জানান অনন্তবাবু। মাথাভাঙ্গা পুরসভার চেয়ারম্যান লক্ষপতি প্রামাণিক বলেন, আমাদের অস্থায়ী কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বেতন দিতে প্রতিমাসে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। সেই টাকা জোগাড় করতে হিমসিম খাচ্ছি। বর্তমানে আমাদের আয় বন্ধ রয়েছে। নতুন কোন কাজও হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি চললে আগামীতে আরও সমস্যা বাড়বে। লকডাউনের জন্য ১২ কোটি টাকার কাজ শুরু করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। কোচবিহার পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য আমিনা আহমেদ বলেন, লকডাউনে সব কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে ফান্ড না থাকায় সমস্যা রয়েছে। স্বাভাবিক হলে আশা করছি কাজ শুরু হবে।

- Advertisement -