ন্যাজাট, ৮ জুনঃ পতাকা খোলাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির ন্যাজাট। জানা গিয়েছে, সংঘর্ষের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের একজন এবং বিজেপির দু’জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। যদিও বিজেপির দাবি, নিহত তিনজনই তাদের দলের কর্মী। গত কয়েকদিন ধরে ন্যাজাট থানার হাটগাছি এলাকায় বিজেপি জোর করে পতাকা লাগাচ্ছিল বলে তৃণমূলের অভিযোগ। প্রতিবাদে শনিবার সন্ধ্যায় দলীয় ফেস্টুন-পতাকা নিয়ে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা মিছিল করেন। সেইসময় বিজেপি কর্মীদের একাংশ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ। তৃণমূলের দাবি, বুথ কমিটির উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির পালটা অভিযোগ, তৃণমূলই হামলা চালিয়েছে। দু-পক্ষের সংঘর্ষে মৃত্যু হয় কায়ুম মোল্লা নামে এক তৃণমূল কর্মীর। প্রথমে বিজেপি দাবি করেছিল নিহতদের মধ্যে প্রদীপ মণ্ডল ও সুকান্ত মণ্ডল তাঁদের দলের কর্মী। পরে অবশ্য বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু দাবি করেন, নিহতরা প্রত্যেকেই তাঁদের দলের কর্মী। দু-পক্ষের সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।

লোকসভা ভোটের পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় গত কয়েকদিনে দু-পক্ষের হানাহানিতে একাধিক মৃত্যু হয়েছে। তৃণমূলের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি তথা খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের অভিযোগ, বিজেপি তাঁদের কর্মীদের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালাচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁরা পালটা ব্যবস্থা নেবেন। যদিও তণমূলের এই অভিযোগ মানতে অস্বীকার করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতাদের পালটা দাবি, রাজ্যে পরিবর্তন আসন্ন বুঝে তণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই তাঁদের উপর হামলা চালাচ্ছে। সন্দেশখালির ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হল রাজ্য রাজনীতি।

ছবিঃ প্রতীকী