বৃদ্ধকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার বিজেপি নেতা সহ তিন 

60

বর্ধমান: টাকা লুঠের জন্য বাড়িতে ঢুকে নৃশংসভাবে বৃদ্ধকে খুনের ঘটনায় শুক্রবার এক বিজেপি নেতা ও তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতরা বর্ধমানের জয়ন্ত সাঁতরা, সরাইটিকর সিরাজউদ্দিন মণ্ডল ওরফে টগর শেখ এবং বেচারহাটের গৌতম মণ্ডল। জয়ন্ত সাঁতরা বর্ধমান উত্তর বিধানসভার ২৭ নম্বর জেলা পরিষদের বিজেপির ‘শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ’। ভোটের মুখে খুনের ঘটনায় বিজেপি নেতা গ্রেপ্তারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৯ মার্চ সন্ধ্যায় রায়নার পোস্ট অফিস পাড়ার বাড়িতে নৃশংসভাবে খুন হন বৃদ্ধ জীবন কানাই সেনগুপ্ত। খুনের ঘটনার পরেই জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশে এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিন) আমিনুল ইসলাম খানের নির্দেশে বিশেষ টিম গঠন করে তদন্তে শুরু করেন। ঘটনার ৯ দিনের মাথায় মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর থেকে সিরাজউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকি দু’জনকে বর্ধমান থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতরা জেরায় খুনের ঘটনা কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশের দাবি। ধৃতদের মধ্যে গৌতম ও সিরাজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

- Advertisement -

এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিন) আমিনুল ইসলাম জানান, ধৃতদের মধ্যে সিরাজের শাশুড়ি নিহতের বাড়িতে আয়ার কাজ করত। তার কাছ থেকেই ধৃতরা জানতে পারে রায়না পোস্ট অফিস পাড়ার একটি বাড়িতে শুধু তিনজন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থাকেন। সেই বৃদ্ধর ঘরের আলমারিতে কয়েক লক্ষ টাকা রয়েছে। এরপরেই টাকা লুটের পরিকল্পনা শুরু করে সিরাজ। বন্ধু গৌতমও সিরাজের সঙ্গে যোগ দেয়। খুনের ঘটনার দিন জয়ন্তকে সঙ্গে নিয়ে গৌতমের মোটরবাইকে চড়ে তিনজন রায়না বাজারে পৌঁছোয়। কিছুটা দূরে মোটরবাইক রেখে বাড়ির ভিতরে ঢোকে তারা। এরপর বৃদ্ধ জীবন কানাইবাবুকে বন্দুক দেখিয়ে মুখ চিপে ধরে বৃদ্ধকে ভয় দেখানোর সময়েই দুর্ঘটনা ঘটে যায়।

জয়ন্ত সাঁতরা গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে জেলা বিজেপি যুব নেতা শ্যামল রায় অবশ্য বলেন, ‘ভোটের মুখে সুযোগ বুঝে মিথ্যা মামলায় আমাদের নেতাকে ফাঁসানো হয়েছে।’