শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি : ছয়মাসে তিন শাবকের জন্ম। গরুমারায় নবজাতক গন্ডার শাবকদের আগমনে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত বন দপ্তর। নবজাতক সহ গরুমারার সমস্ত গন্ডারের নিরাপত্তার জন্য চলছে রাতদিন বিশেষ নজরদারি। গরুমারায় গন্ডারের সংখ্যা একধাক্কায এখন অনেকটাই বেড়েছে। গন্ডারের নিরাপত্তার জন্য বাড়তি সতর্কতাও অবলম্বন করছে গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগ।

চারবছর পর চলতি বছরের ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি গরুমারায় গন্ডার শুমারি হয়েছিল। এতদিন সরাসরি দেখে গরুমারায় গন্ডার শুমারি হলেও এই প্রথম বিষ্ঠা পরীক্ষার মাধ্যমে গন্ডার শুমারি হয়েছিল গরুমারায়। গত মে মাসে গন্ডার শুমারির যে রিপোর্ট এসেছিল তাতে গরুমারায় গন্ডারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৫২টি। বন দপ্তর সূত্রে খবর, গত ফেব্রুযারি মাসের পর গরুমারায নতুন করে তিনটি শাবকের জন্ম হয়েছে। তিনটি শাবকই যথেষ্ট সুস্থ-স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে বর্তমানে গরুমারায় গন্ডারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫৫টিতে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি গন্ডার গর্ভবতী হয়েছে। গন্ডারের বাড়তি সংখ্যা নিয়ে উচ্ছ্বসিত হলেও তাদের নিরাপত্তায় কোনো খামতি রাখতে চাইছে না বন দপ্তর। ডিএফও নিশা গোস্বামী বলেন, জোরদার নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে গরুমারাজুড়ে। তবে গরুমারায় স্ত্রী-পুরুষ গন্ডারের অনুপাত নিয়ে চিন্তিত বন দপ্তর। জানা গিয়েছে, নিয়ম অনুসারে একটি পুরুষ গন্ডার পিছু তিনটে অথবা খুব কম হলে দুটি করে স্ত্রী গন্ডার প্রয়োজন, সেখানে গরুমারায় সেই অনুপাত অনেকটাই কম।

যে কারণে সঙ্গিনী নিয়ে গরুমারার পুরুষ গন্ডারকুলের লড়াইয়ের কাহিনি কারও অজানা নয়। এই লড়াইয়ে গরুমারায় একটি পুরুষ গন্ডারের কাছে অন্য গন্ডার হেরে  প্রাণ হারিয়েছে বহুবার। তাছাড়া সঙ্গিনী দখলের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে গরুমারা ছেড়ে বৈকুণ্ঠপুরের জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিল দুই পুরুষ গন্ডার। তাদের মধ্যে একটি গন্ডার চোরাকারবারিদের নিশানায় পড়ে প্রাণ হারায়। অপরটির আশ্রয় হয়েছে বেঙ্গল সাফারি পার্কে। নতুন এই গন্ডার শাবকগুলোর লিঙ্গ নির্ধারণ এখনও সম্ভব হয়নি। তবে বন দপ্তরের আশা এই শাবকগুলো স্ত্রী হলে গরুমারার স্ত্রী-পুরুষ গন্ডারের অনুপাত কমবে। নিশা গোস্বামী জানান, গন্ডার শাবকগুলো কিছুটা বড়ো হলে তাদের নামকরণ করা হবে।