শিলিগুড়ি : কেউ বানাচ্ছেন দোকান, কেউ বানাচ্ছেন বাড়ি। সে বাড়ি আবার যে- সে বাড়ি নয়। একেবারে পাকা দোতলা, তিনতলা বাড়ি। তবে বাড়ি তৈরি হলেও জমির কিন্তু কোনো কাগজপত্র নেই। কারণ জমির মালিকানা রেলমন্ত্রকের হাতে। তবে জমি দখলমুক্ত করতে আগ্রহ নেই রেলকর্তাদের। সিপিএম-তৃণমূল নেতারা তো পরোক্ষে জমি দখলকে সমর্থনই করেছেন।

শিলিগুড়ি শহরের বেশ কিছু ওয়ার্ডে রেলের জমি দখল করে বেশ কিছু মানুষ ঘর তৈরি করে চলেছেন। কিন্তু সব দেখেশুনেও রেল কর্তৃপক্ষ চুপ। পাশাপাশি রেলের জমি দখলকারীদের হঠাতে অদ্ভুতভাবে নীরব ডান-বাম সব দলই। শুধু নীরব নয়, ভোটব্যাংকের কথা মাথায় রেখে এই দখলদারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাম-তৃণমূল নেতারা। বাম আমলে রেলের জমি দখল করে যাঁরা বসবাস শুরু করেছেন, তাঁদের ভোটের ওপর এখনও নির্ভর করে থাকতে হয় সিপিএমকে।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের টিকিয়াপাড়া, প্রমোদনগর, আদর্শনগর, কুলিপাড়া, গেটবাজার, ডিজেল কলোনি, নতুনবস্তি এলাকায় রেলের জমি দখল করে বসবাস করছেন প্রচুর মানুষ। পরিস্থিতি এখন এমন যে, প্রায় প্রতিদিনই বিনা বাধায় রেলের জমি দখল করে কোথাও ঘর উঠছে, আবার কোথায় দোকান তৈরি হচ্ছে। যদিও চলতি বছরে আদর্শনগরে রেলের জমিতে বহুতল নির্মাণ নিযে সরব হয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ। একের পর এক নোটিশের পর অবশেষে দখলদার নিজেই বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেন। মাঝেমধ্যে রেলের তরফে তাদের জমি দখলমুক্ত করার অভিযানে নামা হলেও ধারাবাহিকতা না থাকায় বহু জমি এখনও দখল হযে রয়েছে। এই দখলদারদের পাশে দাঁড়িয়ে শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য বলেন, শিলিগুড়িতে প্রায় ১ লক্ষ লোক রেলের জমিতে বসবাস করেন। কিন্তু তাঁদের কোনোভাবেই যেন উচ্ছেদ করা না হয়। রেলের কাছ থেকে সরকার জমি অধিগ্রহণ করে রেলকে ক্ষতিপূরণ দিক। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে মুখ্যমন্ত্রী একটা প্রস্তাব পাঠান। তাতে দীর্ঘকাল ধরে রেলের জমিতে বসবাসকারী গরিব মানুষদের বসবাসকে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হোক। তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকারের বক্তব্য, রাজ্য সরকার উচ্ছেদের পক্ষে নয়, জমির অধিকার দেওয়ার পক্ষে। গরিব মানুষ যেখানে বসবাস করছেন, সেখানেই তাঁরা থাকবেন।

এ বিষযে কাটিহারের এডিআরএম (এনজেপি) সুমন রাজ বলেন, রেলের জমি দখল হলে আমরা মাঝেমধ্যেই নোটিশ দিয়ে থাকি। তবে এইসব ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের সহয়োগিতার প্রয়োজন হয়। যখন এই ধরনের অভিযান হয়, তখন প্রশাসনের সহয়োগিতা চাওয়া হয়। তবে প্রশাসন সহযোগিতা করছে কি না, সে বিষযে তিনি মুখ খোলেননি।