স্কুল খুলতেই কাজ ছেড়ে হাজির ক্লাসে তিন পড়ুয়া

126

খোকন সাহা, বাগডোগরা : করোনায় বাবা-মা কাজ হারিয়েছিলেন। তাই সংসারের হাল ধরতে ডেলিভারি বয়, রেস্তোরাঁয় রান্নার কাজ নিয়েছিল গোঁসাইপুর মুলাইজোতের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হাইস্কুলের তিন পড়ুয়া। মঙ্গলবার থেকে স্কুল খোলার খবর পেয়ে কাজ ছেড়ে ক্লাসরুমে হাজির পঙ্কজ বর্মন (একই নামের দুজন ছাত্র), মনোজ রায়। তিনজনই একাদশ শ্রেণির ছাত্র। এদের মধ্যে দুই পঙ্কজের বাড়ি মুলাইজোতে, মনোজের বাড়ি নতুনপাড়ায়। প্রায় দুবছর পর স্কুল খোলায় অনেক পড়ুয়া যখন আর ক্লাসে আসবে না বলে আশঙ্কা, তখন এই তিন পড়ুয়ার উৎসাহ দেখে আশা বাড়ছে শিক্ষকদের মধ্যে।

পঙ্কজ বর্মন নামে দুই ছাত্রের বাবাই দিনমজুরের কাজ করতেন। করোনার সময় কাজ হারানোয় সংসারে টানাপোড়েন শুরু হয়। স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই পঙ্কজ শিলিগুড়ির চম্পাসারিতে একটি বেসরকারি সংস্থায় পণ্য ডেলিভারি বয়ের কাজ নেয়। দোকানে দোকানে পণ্য পৌঁছে দিয়ে যা রোজগার হত, তাই দিয়ে মূলত সংসার চলত। কিন্তু স্কুল খোলার কথা জানতে পেরেই, দুই পঙ্কজই কাজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমদিনেই ইউনিফর্ম পরে স্কুলে হাজির তারা।

- Advertisement -

অন্যদিকে, মনোজের গল্পটাও খানিকটা একইরকম। করোনা পরিস্থিতিতে সংসারে সাহায্যের জন্য রান্নার কাজ বেছে নেয় সে। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে এক আত্মীয়ের ফাস্ট ফুডের দোকানে আগেই কাজ করত সে। সেই অভিজ্ঞতার সুবাদে কলকাতার একটি ক্যাফেতে শেফের কাজ জুটে যায় মনোজের। বেতন ছাড়াও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। কিন্তু স্কুল খোলার কথা জানার পরে মনোজও কাজ ছেড়ে দেয়। মনোজ বলে, ভালো শেফ হতে হলে স্নাতক হওয়া জরুরি। তাই কাজ ছেড়ে এসেছি পড়াশোনার জন্য।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক ডঃ প্রতীপ বসু জানান, তিন ছাত্রের পড়ার আগ্রহ দেখে তিনি ভীষণ খুশি। প্রতীপবাবু বলেন, স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরও ছয় মাস যদি স্কুল বন্ধ থাকত, তবে আরও অনেক পড়ুয়াকে স্কুলে পেতাম না। প্রতীপবাবুর বক্তব্য, করোনার সময় আমাদের স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছয় পড়ুয়া কাজের জন্য ভিনরাজ্যে চলে গিয়েছে। সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। কারণ আজকে স্কুল খোলার পর সবার খোঁজ করা সম্ভব হয়নি। প্রতীপবাবুর চিন্তা আরও বাড়িয়েছে স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার। নবম শ্রেণির ১৭৮ জন পড়ুয়ার মধ্যে ১৯ জন, দশম শ্রেণির ২২৩ জনের মধ্যে ২৬ জন এদিন ক্লাসে এসেছিল। একাদশ শ্রেণির ১৮৩ জনের মধ্যে ২২ জন, দ্বাদশ শ্রেণির ১৫৯ জনের মধ্যে ১৩ জন উপস্থিত হয়েছে। তবে যত দিন যাবে, পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়বে বলে আশা শিক্ষকদের।