তিন পড়ুয়ার দৃষ্টিতে নতুন গ্রহাণু, নামকরণে নাসার ছাড়পত্র

204

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : আকাশে চোখ রেখে বিশ্বের নজরে শিলিগুড়ির তিন কৃতী। মিলল নাসা সহ তিন আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতি। ছাড়পত্র মিলেছে গ্রহাণুর নামকরণেরও, যা ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে শিলিগুড়িকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে নিশ্চিত শিক্ষামহল। তবে প্রত্যয় চৌধুরী, সাত্ত্বিক ভৌমিক ও পৃথ্বীরাজ দত্ত- তিন কৃতীই উচ্ছ্বাসে তেমনভাবে গা ভাসাতে নারাজ। তিনজনেরই নজর আগামীর আকাশে। একমাত্র কলেজে পা রাখা দলনেতা প্রত্যয়ের প্রতিক্রিয়া, যে কোনও স্বীকৃতি উৎসাহিত করে। তবে নতুন করে আকাশকে চিনতে আরও পড়াশোনা করতে হবে। এখন সেই কাজটাই মন দিয়ে করতে চাই।

মানবসভ্যতার বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে খনিজ পদার্থের উৎস হতে পারে গ্রহাণু। তাই আধুনিক বিশ্বে গ্রহাণুর সন্ধানে বিশেষ নজর দিয়েছে ন্যাশনাল অ্যারোনেটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা), প্যান স্টার অবজার্ভেটরি এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রনমিক্যাল সার্চ কোলাবোরেশন। সেই গ্রহাণুর সন্ধানে শামিল হয়ে নতুন নজির গড়ল শিলিগুড়ি বয়েজ হাইস্কুলের প্রাক্তনী বর্তমানে যাদবপুরের অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অ্যান্ড সায়েন্স কলেজের রসায়নের প্রথম বর্ষের ছাত্র প্রত্যয়, ডন বসকো স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সাত্ত্বিক এবং টেকনো ইন্ডিয়ার দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র পৃথ্বীরাজ। তিন আন্তর্জাতিক সংস্থার আন্তর্জাতিক গ্রহাণু সন্ধান প্রয়াস-এ শামিল হয়ে শিলিগুড়ির এই তিন কৃতী আবিষ্কার করেছে নতুন গ্রহাণু, যার বর্তমান টেকনিকাল নাম ২০২০জেকে ii। তবে যেহেতু তিন পড়ুয়া গ্রহাণুটা খুঁজে পেয়েছে, তাই তারাই অধিকার পেয়েছে গ্রহাণুটির নামকরণের। যদিও এই ক্ষেত্রে নাসার গাইডলাইন মেনে তাদের অনেক পড়াশোনা করতে হবে। পরামর্শ নিতে হবে দিকপাল মহাকাশ বিজ্ঞানীদের।

- Advertisement -

তবে এই উত্তরণের পথটা মসৃণ ছিল না। গ্রহাণু সন্ধান প্রকল্পে নিজেদের শামিল করার ক্ষেত্রে গত মে মাসে অনলাইনে তাদের আবেদন করতে হয়েছে। বসতে হয়েছে পরীক্ষায়। পরীক্ষায় পাশ করার পর প্যান স্টারের পাঠানো আকাশের হাই প্রোফাইল ছবি এবং অবজার্ভেশন ডেটা অ্যানালিসিস করতে হয়েছে। এই কাজের ক্ষেত্রে নজরে রাখতে হয়েছে ইমেজ প্রসেসিং, কমপ্যারেটিভ অ্যালগোরিদম, ডিজিটাল গ্রাফিকসের ওপর। এই প্রকল্পে অংশ নিয়েছিল ভারতের ১৫টি সহ বিশ্বের প্রায় ১০০টি টিম। স্বাভাবিকভাবেই কঠিন লড়াই। তবু প্রত্যয়রা সাতটি অ্যাসট্রয়েড পাঠিয়েছিল নাসা সহ তিন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে। এর মধ্যে একটি ডিসকভারি স্ট্যাটাস পেয়েছে আমেরিকার সময়ে রবিবার সকালে। এদিনই তিন সংস্থা তাদের কাজের স্বীকৃতি দিয়ে আবিষ্কৃত গ্রহাণুর টেকনিকাল নামকরণ করেছে। পাঠিয়ে দিয়েছে স্বীকৃতিপত্রও। উচ্ছ্বাসে গা না ভাসালেও সূর্যনগরে বেড়ে ওঠা প্রত্যয় বলে, প্রত্যেকদিনই আকাশ একইরকম, ধারণাটা ভুল। খোলা চোখের স্থির দৃষ্টিতে কিছু না কিছু নতুনের সন্ধান পাওয়া যাবেই। এমনভাবেই আমরা অনাবিষ্কৃত গ্রহাণুকে খুঁজে পেয়েছি। কলেজপাড়ার সাত্ত্বিক বলে, দুপুরে যখন নাসার তরফে ঘোষণা করা হল, আমরা ডিসকভারি করেছি, প্রথমদিকে তেমনভাবে বিশ্বাসই হচ্ছিল না। কিন্তু এখন পড়াশোনাটা করতে হবে। আরও অনেক আবিষ্কারের স্বপ্নটা বাস্তব করতে হবে। দেশবন্ধুপাড়ার পৃথ্বীরাজের গলাতেও মহাকাশ এবং আগামীর স্বপ্ন। তিন কৃতীর স্কুল এবং কলেজ আলাদা হলেও কার্যত ছাত্র স্কাই ওয়াচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ নর্থবেঙ্গলের। তাদের মহাকাশের পাঠ দিয়েছেন দেবাশিস সরকার। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি গ্রহাণুর অভিকর্ষ বল রয়েছে। যা সোলার সিস্টেমের চলাচলের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে নতুন গ্রহাণুর আবিষ্কারের মধ্যে দিয়ে মহাকাশের নতুন জানালা খুলল। উল্লেখ্য, সাধারণত গ্রহাণুপুঞ্জের অবস্থান মঙ্গল এবং বৃহস্পতির মধ্যে। যার দূরত্ব সূর্যের থেকে ৩০-৫০ কোটি কিলোমিটার। তবে শিলিগুড়ির তিন ছেলে যে গ্রহাণুটি আবিষ্কার করেছে তা ছিল পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে।