র‍্যাশন ডিলারের বাড়ির গোপন কুঠুরি থেকে তিন টন সুপারি উদ্ধার

220
র‍্যাশন ডিলারের বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে বস্তাবন্দী সুপারি। ছবি: মোস্তাক মোরশেদ হোসেন 

বীরপাড়া: র‍্যাশন ডিলারের বাড়ির গোপন কুঠুরি থেকে তিন টন সুপারি উদ্ধার করল পুলিশ। সম্প্রতি এশিয়ান হাইওয়েতে একটি ট্রাক থেকে ২৩ টন সুপারি লুট হয়। যার আনুমানিক ৩০ লক্ষ টাকা। সুপারি লুটের অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। ৫ জানুয়ারি রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ভগতপাড়া লাগোয়া এলাকার একটি লাইন হোটেলের সামনে থেকে পরিত্যক্ত ও ফাঁকা ট্রাক ঊদ্ধার করে আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট থানার পুলিশ। এরপর বুধবার বীরপাড়া থানা ও মাদারিহাট থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বীরপাড়া চৌপথি সংলগ্ন এলাকার এক র‍্যাশন ডিলারের বাড়ির গোপন কুঠুরি থেকে কমবেশি তিন টন সুপারি বাজেয়াপ্ত করেছে। সেগুলি ট্রাক থেকে লুট হওয়া সুপারির একাংশ বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান তদন্তকারী দলের আধিকারিকদের। তবে বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি মাদারিহাট থানার ওসি টি এন লামা। এদিকে, পুলিশের হানার আগেই ওই র‍্যাশন ডিলার সপরিবারে গা ঢাকা দেওয়ার তাঁর ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই র‍্যাশন ডিলার লুট হওয়া সুপারি কিনে নিয়েছেন, নাকি লুটপাটের ঘটনায় জড়িত রয়েছেন, নাকি এগুলি তাঁর নিজের সুপারি সেবিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অবশ্য বুধবার বিকেল পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও মামলা রুজু করা হয়নি বলে মাদারিহাট থানা সূত্রের খবর। এদিন র‍্যাশন ডিলারের বাড়িতে অভিযানে নেতৃত্ব দেন মাদারিহাট থানার সাব ইনস্পেক্টর ধ্রুব প্রধান ও বীরপাড়া থানার সেকেন্ড অফিসার ফজলুল হক। এদিন ওই র‍্যাশন ডিলারের বাড়ির সিঁড়ির তলায় তৈরি গোপন কুঠুরিতে থরে থরে সাজানো বস্তাবন্দী সুপারি দেখে তাজ্জব বনে যান পুলিশ আধিকারিকরাও। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সুপারিগুলি বাজেয়াপ্ত করে মাদারিহাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফালাকাটার সুপারি ব্যবসায়ী নারু সাহা অসম থেকে সুপারি কিনে ট্রাকে চাপিয়ে নিয়ে আসছিলেন। নারুবাবু জানান, ৩১ ডিসেম্বর অসম থেকে ট্রাকটি রওনা হয়। ট্রাকের মালিক ও চালক দু’জনই অসমের বাসিন্দা। ৩ জানুয়ারি সকালে ট্রাকটি অসম থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলায় ঢোকে। বেলা এগারোটা নাগাদ মাদারিহাট পার হওয়ার পরই চালকের মোবাইল ফোনের সুইচ অফ হয়ে যায়। দু’দিন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও ট্রাকের সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার তিনি মাদারিহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। বুধবার বিকেল পর্যন্ত ট্রাকচালকের সন্ধান মেলেনি। পুলিশ জানায়, ট্রাকচালক ও সুপারির সন্ধান চলছে।