প্রশান্ত মহাসাগরে তিন মার্কিন রণতরী, বার্তা চিনকে

730
ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট।

নয়াদিল্লি: চিন বুনো ওল হলে আমেরিকা বাঘা তেঁতুল। চিনকে বার্তা দিতে নিজেদের নৌবহরকে সক্রিয় করল আমেরিকা।

মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি অতি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী টহলদারি শুরু করেছে প্রশান্ত মহাসাগরে। এছাড়া সাতটি মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজের তিনটি এখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় টহল দিচ্ছে। বাকি চারটি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে বন্দরে নোঙর করে রয়েছে। ইউএসএস রোনাল্ড রিগান ও ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাংশে এবং ইউএসএস নিমিতজ পূর্বাংশে টহল দিচ্ছে। এক লক্ষ টন ধারণ ক্ষমতা রয়েছে এই মার্কিন রণতরীগুলির। এক একটি জাহাজে ৬০টির বেশি যুদ্ধবিমান বহন করা যায়।

- Advertisement -

মার্কিন রণসজ্জা দেখে টনক নড়েছে চিনেরও। প্রতিবাদে কড়া মন্তব্য করেছে চিন। সে দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে নিজেদের স্বার্থরক্ষায় পিছু হটবে না বেজিং। প্রয়োজনে নিজেদের শক্তি দেখাতে ওই এলাকায় তারা নৌমহড়াও দিতে পারে বলে জানা গিয়েছে। চিন সামরিক শক্তি এবং কৌশলগত নজরদারি বাড়িয়েছে পূর্ব লাদাখের পাশাপাশি ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরের দিকেও। পূর্ব লাদাখে ভারতের সঙ্গে চিনের এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সংঘাত চলছে।

সাম্প্রতিকালে প্রশান্ত মহাসাগরে এমনভাবে রণতরী সাজাতে দেখা যায়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। তিন বছর আগে, ২০১৭ সালে পিয়ংইয়ং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চূড়ান্ত বিরোধের সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শেষবার মার্কিন রণতরী দেখা গিয়েছিল। চিন-ভারত সীমান্ত বিরোধ ওয়াশিংটনের নজরে থাকলেও তার জন্য এই রণসজ্জা নয় বলে মনে করা হচ্ছে। দক্ষিণ চিন সাগর ও তাইওয়ান নিয়ে বেজিং-ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে ওই তিনটি যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ভাইস অ্যাডমিরাল অনিল চোপড়ার মতে, বিরোধ সংঘাতের রূপ নিলে নৌবাহিনী সচল হয়ে ওঠে। কোনও পক্ষ সংঘাতের এলাকায় রণতরী পাঠালে সেটা একটা বার্তা হিসাবে যায় প্রতিপক্ষের কাছে। তখন তারাও সক্রিয় হয়ে ওঠে, যেটা চিনের ক্ষেত্রে হয়েছে। তার মানে এই নয় যে, এখনই যুদ্ধ বাধবে। তবে রণতরী চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে দেয়।

ইউএসএস রোনাল্ড রিগান।

পেন্টাগনের এশিয়া প্যাসিফিক সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের কৌশলগত অধ্যয়নের অধ্যাপক মোহন মালিকের বক্তব্য, আপাতত যত দূর জানা যাচ্ছে, মার্কিন রণতরীর একটি উপকূল ছেড়ে বেরিয়েছে, একটি রয়েছে ফিলিপিন্স উপকূলের কাছে এবং ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট রয়েছে দক্ষিণ ভিয়েতনামের দিকে। তিনি বলেন, ‘ইউএসএস রুজভেল্ট ভারত বা চিনের যেকোনও রণতরীর চেয়ে শুধু তিন গুণ বড় নয়, এর ধারণ ক্ষমতাও অনেক বেশি। এটা নানা ধরনের ক্রুজার, ডেস্ট্রয়ার, স্কোয়াড্রন ও সাবমেরিন বহন করতে পারে।’

২৬ জুন ইউএসএস রুজভেল্টকে দেখা গিয়েছে ওয়েক আইল্যান্ডের কাছে। এই রণতরীটি সাধারণত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলেই টহল দেয়। গত মার্চে রুজভেল্ট করোনা ভাইরাসের কবলে পড়েছিল। রণতরীর এক হাজার কর্মীর শরীরে করোনা ধরা পড়ে। তারপর সেটিকে গুয়াম বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় আমেরিকা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ওয়াং জিসি চিনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাতে না যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বেজিংয়ের।‘