হাতখরচ বাঁচিয়ে ভবঘুরেদের বাড়ি পাঠান তারাশংকররা

252

কল্লোল মজুমদার, মালদা : ওঁরা তিনজন যুবক। ওঁদের বেশিরভাগই বেকার। জোটেনি চাকরি। তাতে কী আছে। হাতখরচা বাঁচিয়ে ভবঘুরেদের বাড়ি ফেরান তারাশংকর রায়, খোকন লোহার, দীপঙ্কর মহালদার। একজন দুইজন নয়, ইতিমধ্যে ২০ জন ভবঘুরেকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিয়ছেন পরিবারের হাতে। তারাশংকর, দীপঙ্করদের মতে, ভবঘুরেদের উদ্ধার করতে না পারলে হয়তো একদিন গণপ্রহারের শিকার হবেন।

বৃহস্পতিবার এমনই এক ভবঘুরে গুগলি শর্মাকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে উদ্ধার করে ফেরত পাঠানো হল বিহারের এক প্রত্যন্ত গ্রামে। ওই যুবকদের একজন তারাশংকর  রায় জানান, দিন চল্লিশ আগে বিহারের কাটিহার জেলার রাঘল গ্রামের যুবক গুগলি শর্মা হারিয়ে যান। তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। গুগলি ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত গোপীনাথপুর গ্রামে। স্থানীয় মানুষজন তারাশংকর, দীপঙ্করদের ফোন করে বিষয়টি জানান। এরপরেই গুগলি শর্মার কাছে পৌঁছে যান তাঁরা। প্রথমে ওই ভবঘুরে যুবকের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সখ্যতা গড়ে তোলেন। পেট ভরে খাওয়ানো হয় গুগলিকে। স্নান করিয়ে জামাকাপড় পরিয়ে আস্তে আস্তে জানতে পারেন তাঁর পরিচয়। এরপর তারাশংকর শরণাপন্ন হন গুগলে। গুগল সার্চ করে বের হয়ে আসে রাঘল গ্রামের নাম। খোঁজ করতে গিয়ে মেলে ওই গ্রামের একটি দোকানের মালিকের মোবাইল নম্বর। ওই মালিকের মোবাইলে ফোন করে জোগাড় করা হয় স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের নাম। ওই পঞ্চায়েত সদস্য গুগলির বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানান। দোকানদারের মোবাইল থেকে ভিডিও কল করে দেখানো হয় গুগলিকে। গুগলিকে শনাক্ত করেন বাবা অনিল শর্মা। ছেলেকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা। এরপর তাঁরা ছুটে আসেন মালদায়। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় আইন মেনে গুগলিকে তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তারাশংকর বলেন, আমরা বেশ কিছু দিন লক্ষ করছি চোর সন্দেহে একের পর এক গণপ্রহারের ঘটনা ঘটছে সারা দেশ সহ মালদা জেলাতেও। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তাই আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে ভবঘুরেদের উদ্ধার করে চলেছি।

- Advertisement -