নন্দীগ্রামে ভোটের প্রচারে নামতে পারেন ‘টাইগার’

164

বীরপাড়া: নিজের এলাকা ছাড়া রাজ্যের অন্যত্রও প্রচারে যেতে পারেন ডুয়ার্সের আদিবাসী সম্প্রদায়ের অন্যতম পরিচিত মুখ তথা মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রাজেশ লাকড়া ওরফে টাইগার। দলের একটি সূত্র মোতাবেক, টাইগারবাবুকে নন্দীগ্রামেও ভোটের প্রচারে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রামে এবার তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এমনকি, নন্দীগ্রাম ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায়  টাইগারবাবুকে প্রচারে নামানো হতে পারে বলে দলের একটি  সূত্রের খবর।

ভোট প্রচারে নন্দীগ্রামে যাওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আমতা আমতা করে বিষয়টি স্বীকার করলেও এ প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে বা বিস্তারিত তথ্য দিতে চাননি টাইগার। তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ে সব জানতে পারবেন।’ যদিও দলের আলিপুরদুয়ার জেলা কমিটির সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে এখনও দলের তরফে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। তাই এবিষয়ে আমার কাছে কোনও তথ্য নেই।’

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, একসময় অখিল ভারতীয় আদিবাসী বিকাশ পরিষদের অন্যতম নেতা রাজেশ লাকড়া সহ অন্যান্যরা পরবর্তীতে তৈরি করেন মূলনিবাসী আদিবাসী বিকাশ পরিষদ। ওই সংগঠনের সূত্রে ডুয়ার্সের আদিবাসী বলয়ে রাজেশবাবুর নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। অখিল ভারতীয় আদিবাসী বিকাশ পরিষদে থাকাকালীন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আন্দোলনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে এককাট্টা করার লড়াইয়ে শামিল হয়ে ডুয়ার্সের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন রাজেশ লাকড়া। সেসময়ই তিনি মমতা ব্যানার্জির নজরে পড়েন। জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাটের  বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী পদ পাওয়ার পেছনে তাঁর আদিবাসী নেতা হিসেবে প্রভাব প্রতিপত্তিও কাজ করেছে বলে মনে করেন অনেকেই।

প্রসঙ্গত সাঁওতাল বিদ্রোহের নায়ক বিরসা মুন্ডার জন্মদিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। করম পুজোয় যারা শামিল হন তাদের জন্য সেকশনাল হলিডের ব্যবস্থাও করেছে রাজ্য সরকার। এছাড়াও আদিবাসী অধ্যুষিত চা বলয়ে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, চা সুন্দরী প্রকল্পে চা শ্রমিকদের ঘরের ব্যবস্থা সহ রাজ্য সরকারের যেসব প্রকল্পে আদিবাসীদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ উপকার হয়েছে সেগুলি নিয়ে রাজ্যের অন্যান্য আদিবাসী এলাকায় প্রচারাভিযান চালাতে রাজেশকে নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলে জল্পনা চলছে তৃণমূলে। তবে এবিষয়ে খোলাখুলি মন্তব্য করতে চাইছেন না কেউই।