মধ্য আমেরিকার টাইগার লিলি দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে

183

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : দার্জিলিংয়ে জলাপাহাড়ের জঙ্গল থেকে পাওয়া গেল মধ্য আমেরিকার বিখ্যাত টাইগার লিলি ফুলের গাছ। জঙ্গল থেকে সেই গাছ খুঁজে বের করলেন দার্জিলিং সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক শুভাশিস পান্ডা ও তাঁর ছাত্র লিও ছেত্রী। শুভাশিসবাবু বর্তমানে নদিয়ার চাপড়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদে কর্মরত। এই কাজে শুভাশিসবাবু ও লিওকে সহায়তা করেছেন দাজিলিংয়ের আলুবাড়ির বাসিন্দা প্রকৃতি সংরক্ষণবিদ জয়কুমার থামি। ২১ জুন প্রকৃতি বিষয়ক গবেষণা পত্রিকা জু প্রিন্ট-এ দার্জিলিং পাহাড়ে টাইগার লিলি নিয়ে গবেষণার কথা প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃতিগতভাবে আক্রমণাত্মক অর্থাৎ দ্রুত বংশবিস্তার করে স্থানীয় প্রজাতির উদ্ভিদের জায়গা দখল করা এবং এলিয়েন প্রজাতি হিসাবে চিহ্নিত করা হলেও গাছটির প্রকৃতি নিয়ে আরও গবেষণা জরুরি বলেই মত শুভাশিসবাবুর।

টাইগার লিলি সাধারণ লিলি প্রজাতির উদ্ভিদের মতো, কিন্তু ফুলটির রং রক্তের মতো লাল বা তামাটে লাল। বছরে শুধুমাত্র জুলাই ও অগাস্টে ফুলটি ফোটে। তবে ফুলটি ক্ষণস্থায়ী। সকালে ফোটার ৫-৬ ঘণ্টার মধ্যেই নেতিয়ে পড়ে ও পচে যায়। তবে ফুলটির সৌন্দর্য আকর্ষণীয়। তাই স্থানীয়দের অনেকেই বাড়ির টবে ওই গাছ লাগায়।

- Advertisement -

শুভাশিসবাবু জানিয়েছেন, দার্জিলিংয়ের জঙ্গলে ওষধি গাছের সন্ধান করতে গিয়ে তাঁরা টাইগার লিলির খোঁজ পান। জলাপাহাড় এলাকার পুরোনো বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ১৮৯০ থেকে ১৯০০ সালের মধ্যে কোনও এক সময় মেক্সিকো থেকে একজন শিক্ষক স্থানীয় একটি ইংরেজিমাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করতে এসেছিলেন। সম্ভবত তিনিই এই গাছটি মেক্সিকো থেকে এনে স্কুলের বাগানে লাগিয়েছিলেন। সেখান থেকেই আশপাশের প্রায় চার কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত ছড়িয়ে যায় গাছটি। তবে মধ্য আমেরিকার জঙ্গল থেকে টাইগার লিলি গাছ যেভাবে প্রায় সাত হাজার ফুট উচ্চতায় জলাপাহাড়ের নাতিশীতোষ্ণ জঙ্গলে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে বিস্তার লাভ করেছে তা বিরল বলেই মত উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা টাইগার লিলি গাছের কন্দ জ্বর, বদহজম, গ্যাস, অম্বলের ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করেন। তাঁদের কাছে গাছটি পেঁয়াজি ফুলের গাছ হিসাবেই পরিচিত। যদিও গাছটির ওষধি গুণাগুণ নিয়ে এখনও কোনও গবেষণা হয়নি। যেহেতু স্থানীয়রা ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করছেন তাই গাছটির ওষধি গুণাগুণ নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা। শুভাশিসবাবু জানিয়েছেন, তাঁরা গাছটি নিয়ে গবেষণার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে বিভিন্ন পর্যায়ে গবেষণার জন্য প্রচুর পরিমাণে ফুল, পাতা, কন্দের প্রয়োজন। কিন্তু তা সংগ্রহ করতে না পারায় গবেষণার কাজ এগোয়নি। টাইগার লিলি সংরক্ষণ করে ঘর সাজানো ও ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহার করা যাতে পারে বলেই মনে করছেন শুভাশিসবাবু।

ন্যাশনাল বায়োডাইভারসিটি অথরিটির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত দার্জিলিংয়ে পিপলস বায়োডাইভারসিটি রেজিস্ট্রার-এ ইতিমধ্যেই টাইগার লিলির চিহ্নিতকরণ ও ওষধি গুণাগুণের কথা নথিভুক্ত হয়েছে। শুভাশিসবাবু বলেন, টাইগার লিলি পার্বত্য হিমালয়ে উদ্ভিদ বৈচিত্র‌্যে নতুন গবেষণার দরজা খুলে দিয়েছে। গাছের ওষধি গুণাগুণ নিয়ে নতুন গবেষণার পদক্ষেপ করা হচ্ছে।