নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে এখনও পর্যন্ত ধৃত ৪০ রোহিঙ্গা

104

রাহুল মজুমদার, শিলিগুড়ি : জঙ্গি কার্যকলাপের জন্যেই কী বাংলাদেশের উদ্বাস্তু ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের ভারতে প্রবেশ করানো হচ্ছে? তদন্তে নেমে এমনটাই ইঙ্গিত পেয়েছে একাধিক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। প্রাথমিক তদন্তে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার আধিকারিকরা জানতে পেরেছে, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের দেশে প্রবেশ করিয়ে তাদের বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে একাধিক জঙ্গি সংগঠন। তার জন্য প্রতি মাসে হাওলা হুন্ডির মাধ্যমে প্রচুর টাকা আসছে এই সমস্ত প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে। মূলত হায়দরাবাদ এবং জম্মু ও কাশ্মীরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। এর বাইরে এই রাজ্যে এবং অসমেও লস্কর-ই-তৈবা, জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের মতো জঙ্গি সংগঠনের প্রশিক্ষণ শিবির রয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছে। তাই রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে বিশেষভাবে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক আধিকারিক সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপ চালানোর জন্যেই ভারত বিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলি রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করাচ্ছে।

গত বছরের শুরু থেকেই বদরপুর হয়ে ভারতে রোহিঙ্গা প্রবেশের বিষয়টি বেশি সামনে এসেছে। সেই থেকে এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র বাংলার বিভিন্ন স্টেশনে অন্তত পক্ষে ১০০ জন রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার হয়েছে। তার মধ্যে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে সংখ্যাটা ৪০-এর কাছাকাছি। এদের মধ্যে কেউ এখনও জেল হেপাজতে রয়েছে। কাউকে আবার বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই জম্মু ও কাশ্মীরের দিকে যাচ্ছিল। হাতে গোনা কয়েকজনকে হায়দরাবাদ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে হায়দরাবাদ, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে জঙ্গি সংগঠন। তাই সম্প্রতি নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা হায়দরাবাদ কেন যাচ্ছিল- সেই বিষয়টি খোঁজ করে দেখছে তদন্তকারীরা। গত বছরই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে রিপোর্ট দিয়েছে সেই অনুযায়ী এজেন্টদের মাধ্যমে লস্কর-ই-তৈবা বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের বাছাই করে বদরপুর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষণ নিতে পাঠাচ্ছে। এরপর তাদের জম্মু ও কাশ্মীরে পাঠানো হচ্ছে। সেখান থেকেই তাদের ভারতের বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গি কার্যকলাপে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই সমস্ত রোহিঙ্গাদের জন্যে ভুয়ো আধার কার্ড, প্যান কার্ডও তৈরি করে রাখা হচ্ছে। এমনটাই জানতে পেরেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

- Advertisement -