সরকারি জমিতে থাকা বিজেপির কার্যালয় ভাঙার ঘটনায় অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে

223

আসানসোল: বিজেপির দলীয় কার্যালয় ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্ষবরণের সকালেই তপ্ত হয়ে উঠল আসানসোলের বারাবনি থানার গৌরাণ্ডি হাটতলা এলাকা। ঘটনায় অভিযোগের তির উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতে তৃণমূলের নেতারা দলের কর্মীদের দিয়ে এই কাজ করিয়েছে। বিজেপির তরফে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, সরকারি জমি দখল করে হওয়া বিজেপির ঐ দলীয় কার্যালয়টি উঠেছিল। যা ক্রমেই সমাজবিরোধীদের আস্তানা হয়া উঠছিল। সেক্ষেত্রে স্থানীয়রাই ওই কার্যালয়টি ভেঙেছেন। যদিও, এনিয়ে এখনও অবধি বিজেপির তরফে কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি পুলিশে।

২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর বিজেপির এই দলীয় কার্যালয়টি ভাঙচুর করে দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। সেসময় বিজেপি নেতা মুকুল রায়, আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ও বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পাণ্ডা গৌরাণ্ডিতে পৌঁছে দলীয় কার্যালয়টি পুনরুদ্ধার করে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। সেই ঘটনার বছর না ঘুরতেই আরও একবার ভাঙা পড়ল ওই কার্যালয়টি।

- Advertisement -

অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের দরজা জানালা খুলে জেসিবি মেশিন চালিয়ে তা ভেঙে দেওয়া হয়। এবিষয়ে, বিজেপি যুব মোর্চার জেলা সভাপতি তথা বারাবনির বিজেপি নেতা অরিজিৎ রায়ের অভিযোগ করে বলেন, রাজ্যজুড়েই এরকম অরাজকতা চলছে। বারাবনি তার বাইরে নয়। এর আগেও এই দলীয় কার্যালয়টি ভাঙা হয়েছিল। আবারও বারাবনির ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অসিত সিং’য়ের ইন্ধনে তা ভাঙা হল। তাঁর অভিযোগ, অসিত সিং’য়ের ভাই পানুরিয়া পঞ্চায়েত প্রধান বিশ্বজিৎ সিং দাঁড়িয়ে থেকে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বুলডোজার চালিয়ে দলীয় কার্যালয়টি ভেঙ্গেছে। অরিজিতের কথায়, এই সন্ত্রাসের যোগ্য জবাব ২০২১-র বিধানসভা নির্বাচনে সাধারণ মানুষই দেবেন। এবিষয়ে তাঁর আরও সংযোজন- বাবুল সুপ্রিয় তো বলেইছেন, “যত মারবি তত হারবি”।

বারাবনি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অসিত সিং অবশ্য দাবি বিজেপির ওই দলীয় কার্যালয় তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙেনি। তিনি জানান, শুনেছি ওই দলীয় কার্যালয়টি পূর্ত দপ্তরের জমি দখল করে করা হয়েছিল। সেখানে দরজা, জানালাও ছিল না। রাত পর্যন্ত মাদকাসক্তদের আড্ডা হত সেখানে। বারাবনি থানার পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছিলেন গৌরাণ্ডি হাটতলার বাসিন্দারা। দুষ্কৃতিদের আড্ডা জেরে হয়তো স্থানীয়রাই ভেঙে ফেলেছেন।

বারাবনি ব্লক অফিস সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে এমন কোনও কাজ প্রশাসন বা পঞ্চায়েত অফিসের তরফে হয়নি। অন্যদিকে, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি(পশ্চিম) বিশ্বজিত মাহাতো বলেন, আমাদের রেকর্ডে দনীয় কার্যালয় বলে কিছু নেই। একটা ভাঙা ঘর ছিল। যা সরকারি জমি দখল করে কেউ করেছিল। স্থানীয়রা ডেপুটেশন দিয়েছিলেন ওই ভাঙা ঘরে নাকি অসামাজিক কাজকর্ম চলছে। সম্ভবত স্থানীয়রাই ওই অবৈধ ঘরটি ভেঙে ফেলেছে।