রদবদল ঘিরে তৃণমূলে ক্ষোভ পুরাতন মালদায়

158

পুরাতন মালদা: পুরাতন মালদায় তৃণমূলের টাউন সভাপতি এবং পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারপার্সন বদল হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন নেতাকর্মীরা। বুধবার রাতে পুরাতন মালদার মঙ্গলবাড়ি চৌরঙ্গী মোড় এলাকার দলীয় কার্যালয় জেলার নেতাদের সামনে পেয়ে বিক্ষোভ ফেটে পড়েন স্থানীয় কর্মী, সমর্থকেরা। সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন পুরাতন মালদার প্রাক্তন টাউন সভাপতি বিভূতি ঘোষ, প্রাক্তন পৌর প্রশাসক কার্তিক ঘোষ সহ-সভাপতি নব রঞ্জন সিনহা সহ অন্যান্যরা। কিন্তু তাদের সামনেই দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি তোলেন, পুরাতন মালদা শহর বাদ দিয়ে ইংরেজবাজার শহর থেকে কেন এই এলাকায় দলের নতুন টাউন সভাপতি করা হল। তাছাড়াও পুরাতন মালদা পুরসভায় বিগত দিনে যারা কংগ্রেস এবং সিপিএম দল করে এসেছেন, পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগদান করেছেন। সেইসব নেতাদের প্রশাসক পদে কেন বসানো হল।

এদিন চৌরঙ্গী মোড় এলাকার দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভকারী তৃণমূল কর্মীদের বক্তব্য, এতদিন পুরাতন মালদা টাউন সভাপতির পদ সামলিয়ে এসেছেন বিভূতি ঘোষ। তিনি এলাকার একজন সক্রিয় তৃণমূল নেতা। বিগত দিনে তিনি পুরাতন মালদা পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ সামলেছেন। কিন্তু হঠাৎ করে তাকে সরিয়ে পুরাতন মালদার টাউন সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রসেনজিৎ দাসকে। প্রসেনজিৎবাবু ইংরেজবাজার শহরের বাসিন্দা। পুরাতন মালদার দলের হাল কীভাবে বুঝবেন। এই এলাকায় হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী থাকলে কেন তাদের মধ্যে কাউকে বেছে নেওয়া হল না। আর কেনইবা বিভূতি ঘোষের মতোন একজন দৌ’দণ্ড প্রতাপ নেতাকে তার এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। এই নিয়ে এদিন তৃণমূলের পুরাতন মালদার পার্টি অফিসে তুলকালাম শুরু হয়ে যায়।

- Advertisement -

এদিন পুরাতন মালদার দলীয় কার্যালয়ে কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য গিয়েছিলেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার তৃণমূল সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তেজনা পূর্বক হতে দেখে সেখান থেকে তাকে চলে আসতে হয়।

পুরাতন মালদা ব্লক তৃণমূলের যুব সভাপতি শ্রবণ গাঙ্গুলি জানান, এই ধরণের ঘটনা একেবারেই কাম্য নয়। কিছু কর্মীরা নিজেদের বিক্ষোভের কথা বলেছে। তাদেরকে আমরা জানিয়েছি এটা রাজ্য নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত। কাজেই আমাদেরকে এই সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে। এখানে সকলেই আমরা ঐক্য রয়েছি। বিক্ষোভের কোনও ব্যাপার নেই। সে কথা বোঝানো হয়েছে।

তৃণমূলের পুরাতন মালদার টাউন প্রাক্তন সভাপতি বিভূতি ঘোষ বলেন, ‘এলাকার অসংখ্য কর্মী-সমর্থকেরা এদিন দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁদের দাবি পুরাতন মালদা প্রায় ৪৫ হাজার নাগরিক রয়েছে। যাদের মধ্যে কয়েক হাজার নেতাকর্মী রয়েছেন। তাদের মধ্যে কাউকে না বেছে, কেন ইংরেজবাজার শহরের একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হল। তা নিয়েই এদিন দলের কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাদেরকে আমি আশ্বস্ত করেছি। এটা মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। সবাইকেই এই সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে। পরে অবশ্য বিক্ষোভকারীরা বুঝেছেন এবং তারা শান্ত হয়ে ফিরে গিয়েছেন।’