সাংবাদিক নিগ্রহের দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইল তৃণমূল

248

রাজগঞ্জ: রাজগঞ্জে সাংবাদিক নিগ্রহের দায় স্বীকার করে নিল তৃণমূল। সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব। পাশাপাশি দলের তরফে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এছাড়া পুলিশকেও গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলেন রাজ্য নেতৃত্ব।

শুক্রবার তৃণমূল পরিচালিত রাজগঞ্জের সুখানি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সম্পা দত্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে দলেরই এসসি এসটি ওবিসি সেলের তরফে ডেপুটেশন দিতে গেলে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সেই খবর করতে যাওয়া সাতজন সাংবাদিককে মারধর করে প্রধানের সাঙ্গ-পাঙ্গরা। গতকালই আহত সাংবাদিকরা রাজগঞ্জ থানার আইসি পঙ্কজ সরকারকে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানান। শনিবার তাঁরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেসময় থানায় ছুটে আসেন তৃণমূলের রাজ্য কোর কমিটির সদস্য তথা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সুনীল সরকার। থানা চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের মারধর করার খবর দেখে কলকাতা থেকে ছুটে এসেছি। খুব নিন্দনীয় ঘটনা। শুধু দলের রাজ্য নেতৃত্ব নয়, জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি ও রাজগঞ্জের বিধায়কও ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া দলের তরফে আমি ক্ষমা চাইছি।’

- Advertisement -

তৃণমূলের ওই রাজ্য নেতৃত্ব বলেন, ‘যাঁরা সাংবাদিকদের মারধর করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে দলের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া রাজগঞ্জ থানার আইসিকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে বলা হয়েছে।’ এদিন রাজগঞ্জ থানায় নিগৃহীত সাংবাদিকরা ছাড়াও রাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি প্রেস ক্লাবও জেলার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানায়।

রাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সম্পাদক গিরিশ মজুমদার বলেন, ‘রাজগঞ্জে বারবার সাংবাদিকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই এদিনের ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। পুলিশ কি ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটাই দেখার।’ জলপাইগুড়ি প্রেস ক্লাবের সম্পাদক শান্তনু কর বলেন, ‘পুলিশ সুপার ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সহজেই ছাড়া হবে না।’